বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৫ দফা দাবিতে গেইট মিটিং ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটক ও প্রশাসন ভবনের সামনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। পরে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ। ডিএপিএফসিএল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি মেহেদী হাসান মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, কারখানার অপারেটর রেজাউল করিম, মোহাম্মদ মুসা, ফিরোজ আলম, জাহিদুল আলম, জহুরুল ইসলাম, মাসুদ বাবুল, রেজাউর রহমান, সজীব শেখ ও নাজমুল আশরাফ রাফি প্রমূখ
বক্তারা বলেন, বৈষম্যের কারণে স্বৈরশাসকের বিদায় হলেও বিসিআইসির বৈষম্য এখনো দূর হয়নি। এ কারখানায় গত এক বছরে বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রমোশন হলেও একজন কর্মচারীরও প্রমোশন হয়নি। তেমনি শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থাও নেই। জাতীয় মজুরি কমিশন থেকে স্থানান্তর করলে করপোরেশনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। বিসিআইসির অধীন সব টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে ‘এক করপোরেশন-এক কমিশন’ কার্যকর করার জন্য দাবি জানান তারা।
দাবিগুলো হচ্ছে-কারখানা চালু রাখার স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন ফসফরিক এসিড সরবরাহ করতে হবে। পে-কমিশনভুক্ত কর্মচারীদের ন্যায় মজুরি কমিশনভুক্ত শ্রমিকদের ৫ শতাংশ প্রণোদনা ও ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের দ্রুত প্রমোশন প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে। এবং মজুরি কমিশনের ন্যায় পে-কমিশনের আওতাভুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ঝুঁকি ও নৈশ ভাতা দিতে হবে।
জানতে চাইলে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কমিশন বৈষম্য নিরসনসহ ৫ দফা দাবি নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। সভা শেষে আমাদের একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। আমরা বিসিআইসির কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করব।’
প্রসঙ্গত, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন এই কারখানায় দৈনিক গড়ে ১৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়। বর্তমানে এ কারখানায় ২৪১ জন শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে ১০৮ জন কর্মচারী ও ১৩৩ জন শ্রমিক রয়েছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।