এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিল তাজনীন মেহেজাবীন চৌধুরী। ইন্টারনেটে ফলাফল দেখা যাচ্ছিল না। বারবার মুঠোফোনে চেষ্টা করছিল, অবশেষে সহপাঠীরাই ফলের বিষয়টি জানান তাকে।
সে বলল, ‘আমি কখনো ভাবিনি বোর্ডে প্রথম হবো। নির্বাচনী পরীক্ষার পর কিছু কো-কারিকুলার কার্যক্রমে অংশ নিই, তাতে একাডেমিক পড়ায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলাম। নম্বর দেখার পর নিজেরই অনেক ভালো লাগছে।’
চট্টগ্রামের আনোয়ারা সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজনীন মেহেজাবীন চৌধুরী এবার এসএসসি (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৩০০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২৩৭ নম্বর পেয়ে চট্টগ্রামের প্রথম হয়েছে।
সে চাতরী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার স্কুল শিক্ষিকা মোছাম্মৎ শাহিনা আকতারের একমাত্র কন্যা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফলে তার এই অর্জনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত পুরো পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
মেয়ের সাফল্যে শিক্ষিকা মা শাহিনা আকতার বলেন, আমার মেয়ের কৃতিত্বে আমি শুধু গর্বিত মা নই, পুরো আনোয়ারা গর্বিত। মেয়েকে অনেক কষ্টে বড় করেছি। ওর অনেক শখ পূরণ করতে পারিনি, কিন্তু ও কোনোদিন অভিযোগ করেনি।
মেহেজাবীন বলেন, পরীক্ষার আগে সহপাঠীরা যখনই প্রস্তুতি নেন, তখনই আমি অসুস্থ হয়ে বিছানায়। আমি কখনো দিনে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি পড়িনি। শারীরিক অসুস্থতা আর বিভিন্ন কাজে ব্যস্ততার কারণে ফল আরও ভালো হতে পারত। আশা করেছিলাম ১২৫০ এর ওপরে পাবো।
মেহেজাবীনের স্বপ্ন, বড় হয়ে বিচার বিভাগের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে কাজ করার। সে এ অর্জনের মা ও স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যাংকার আজাদ মঈনুদ্দিন বলেন, মেহজাবীনের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। গ্রাম ছাড়াও উপজেলায় আনন্দের বন্যা চলছে। আগামীতে মেহজাবীনের স্বপ্ন পূরণে আমরা তার পাশে থাকব।
আনোয়ারা সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, বেসরকারিভাবে ফলাফল জানতে পেরেছি। তার এই অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।