চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলীতে নতুন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করায় জমি ক্রয়-বিক্রয় কমে গেছে। এতে কমেছে রাজস্ব, বিপাকে পড়েছে দলিল দাতা, গ্রহীতাসহ নিবন্ধন সংশ্লিষ্টরা। তবে দানপত্রের দলিলের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে বলে জানিয়েছে সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে কর্মকর্তারা।
ভূমিগ্রহীতারা জানিয়েছেন, সন্তানকে বিদেশ পাঠানো, মেয়ে বিয়েসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে বিক্রি করেন জমি। কিন্তু নিবন্ধন ফি বাড়ার কারণে অনেকেই জমি বিক্রি বা কিনতে পারচ্ছেন না। প্রতি শতক জমিতে আগে ১২ হাজার ২২৪ টাকা উৎস কর দিতে হলেও এখন দিতে হচ্ছে তার ডবল ২৫ হাজার টাকা। অনেকেই অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি বাঁচানোর জন্য দাতা-গ্রহীতার করছেন দানপত্রের দলিল। জমি রেজিস্ট্রী এবং দলিল লেখকদেরও দিতে হয় বাড়তি টাকা।
সাব-রেজিষ্ট্রারী সূত্র জানায়, নতুন অর্থবছরে জমি নিবন্ধন খরচ অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাই থেকে ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জমি রেজিষ্ট্রারী (নিবন্ধন) হয়েছে এক শতেরও কম। অনেকেই কর বৃদ্ধির ফলে করছেন না জমি বেচা-কেনা। বেশিরভাগ দলিলই হচ্ছে দানপত্রমূলে। দুইমাসে কবলার সংখ্যা একদমই নেই। যেখানে প্রতি মাসে ৫০০ দলিল নিবন্ধন হতো বর্তমানে দলিল নিবন্ধন হচ্ছে প্রতি মাসে মাত্র ১০০টি।
সাব-রেজিষ্ট্রারী অফিসে কর্মরতরা জানান, প্রতি শতকে ২৫ হাজার টাকা গেইন ট্যাক্স পরিশোধ করা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য বড় বোঝা মনে হচ্ছে। এর ফলে তার কার্যালয়ে কাবলা দলিলের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকার যে বেশি পরিমাণে রাজস্ব পেত, এখন সেই রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কর্ণফুলীর দলিল লেখক মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ফি অনেক বেড়ে যাওয়ায় জমি কর্ণফুলীতে নিবন্ধন কমে গেছে। জমি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎস কর প্রতি শতকে ১২ হাজার ২২৪ টাকা ছিলো কর্ণফুলীতে। বর্তমানে প্রতি শতকে সরকারকে দিতে হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা। ফলে অনেকে দলিল লেখন বেকার হয়ে পড়েছেন। আগের পদ্ধতিতে জমি নিবন্ধন করতে পারলে দলিল সৃজন ও রাজস্ব বাড়বে।
আনোয়ারার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত আরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন নিবন্ধন ফি নির্ধারণের ফলে সাফ কবলা দলিল সৃজন একেবারে কম। বেশির ভাগ দাতা-গ্রহীতারা নিবন্ধন ফি কমাতে দানপত্র করছেন। উৎসে কর বৃদ্ধির ফলে এখন দৈনিক গড়ে ১০ থেকে ১৫টির বেশি দলিল হচ্ছে না।’ ফলে দাতা ও গ্রহীতার মাঝে সাফ কবলা দলিল তৈরিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আগের পদ্ধতিতে নিবন্ধন ফি নিলেই বিষয়টির সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
আনোয়ারা উপজেলার সাব-রেজিস্টার জোবায়ের হোসেন বলেন, অনেকেই খরচ বাঁচানোর জন্য জমি রেজিস্ট্রিতে দাতা-গ্রহীতা দানপত্র করছেন। কিন্তু দানপত্রের দলিলে কোনো এক সময়ে দাতার ওয়ারিশগণরা প্রশ্ন তুলতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘দৈনিক শতাধিক জমি রেজিষ্ট্রারী (নিবন্ধন) হলেও গত জুলাই থেকে এটি কমে এসেছে। সকলে আগ্রহ বাড়ছে দানপত্রে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।