চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি ইজারাকৃত বটতলী পশুর হাটে ফেরদৌস রহমান (৪৫) নামে হাটের ইজারাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা এগারোর দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট তালুকদার ক্লাব পশুর হাটে এঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইজারাদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর আহত ইজারাদার ফেরদৌস রহমান বাদী হয়ে বটতলী এলাকার আলাউদ্দিন তালুকদার (৪০), জমির হোসেন প্রকাশ জুম্মু (৩৮), মো. জাহেদ (৩৫), মো. শাহেদ (৩৫), মো. মিজান (৩৫), জমির (৪৫)কে আসামী করে মামলা করেন।
ঘটনার পরদিন শুক্রবার বিকেলে বটতলী পশুর হাট থেকে ঘটনার জড়িত জমির (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে বলে নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত জমির বটতলী এলাকার মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র।
আনোয়ারা থানার সাব ইন্সেপেক্টর (নিরস্ত্র) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিমুল চন্দ্র দাশ বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত জমির নামে এক এজাহারনামীয় ৬ নম্বর আসামীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।’
আহত ইজারাদার মামলার বাদী ফেরদৌস রহমান বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে আমি বটতলী রুস্তম তালুকদার ক্লাব পশুর হাট এবং আইরমঙ্গল পশুর হাটের ইজারা নিয়েছি উপজেলা প্রশাসন থেকে। তালুকদার ক্লাবের পশুর হাটটি ইজারা নেওয়ার পর থেকে হামলাকারীরা প্রতি হাটবারে লোকজন নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। এসব বিষয় আমি বাজার পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। গত বৃহস্পতিবার হাটবারে অভিযুক্ত আসামীরা ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে হাসিল উত্তোলনে বাঁধা দেয় এবং হাটের পশু নিয়ে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত হাটে ছুঁটে যায় আমি। এসময় তারা আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবী করে মাথায় ধারালো রামদার আঘাত করে এবং হাটের টেবিল চেয়ার ভাঙচুরসহ নিয়ে যায় নগদ টাকাসহ হাসিলের রশিদ বই। আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় তারা।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন,
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আকতার বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে পশুর হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। হাটে বাঁধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।