ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে চট্টগ্রাম নগরী

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা তুঙ্গে উঠেছে। মহানগরের অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান—সবখানেই ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার যার পছন্দ ও সাধ্যের মধ্যে মানুষ নতুন জামা, জুতা এবং প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ঈদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিক্রেতারা ঈদকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ বিক্রির চেষ্টা করছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। নগরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে ১৫ হাজারের বেশি পাইকারি দোকান রয়েছে। এখান থেকে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলার খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য সংগ্রহ করেন। টেরিবাজারেও দেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত শাড়ি, লেহেঙ্গা, গাউন, কসমেটিক এবং অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ব্যবসায়ী বিশেষ প্রস্তুতি নেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার শঙ্কা ছিল, তবুও বাজারে গত বছরের তুলনায় ক্রেতা সংখ্যা ভালো রয়েছে।’

নগরের বিভিন্ন শপিং সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে নিউ মার্কেট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, সানমার সিটি, ষোলশহর, বহদ্দারহাট এবং সিইপিজেড এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের উৎসব বোনাস পাওয়ায় কেনাকাটার চাপ বেড়েছে।

এবারের ঈদ বাজারে পাকিস্তান, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ডের তৈরি পোশাক, মেয়েদের থ্রি-পিস, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদা বেশি। ভারতীয় পোশাকের দাম ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় শাড়ি ও ভারতীয় সিল্ক, কাতান, টাঙ্গাইল ও কাঞ্জিলাল শাড়ি ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জুবিলী রোড, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, চকবাজার, ষোলশহর, নাসিরাবাদ, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার ও বহদ্দারহাট এলাকায় তীব্র যানজট চলছে। পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরা উৎসব মৌসুমে ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।