চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে উপর্যুপরি কোপে গাজী তাহমিদ (২৫) নামের এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরূদ্ধ পরিবার। পরিবারের দাবি নিহত তাহমিদকে বাড়ি থেকে ডেকে পরিকল্পিত ভাবে হত্য করা হয়েছে।
নিহত গাজী তাহমিদ উপজেলার উত্তর হিঙ্গুলী এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। সেই জুলাই ২৪ আন্দোলনে অংশ নেয়। ২৪ শে’র আন্দোলনে ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় সালিশকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মারামারিতে গুরুতর আহত হয় তাহমিদ।
চমেক হাসপাতালে কর্মরত জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জোরারগঞ্জে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে রাতে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাহমিদ উল্লাহর মৃত্যু হয়।
নিহত তাহমিদের মা বিবি জোহরা জানান, তার একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলো তাহমিদ। দুই বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে সুন্দর দিন কাটছিলো। ছেলে কুরআনের হাফেজ । গতকাল বিকালে এক সহপাঠী বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে রাতে খবর পায়, তাহমিদকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছুটে গিয়ে দেখা যায় তাহমিদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাতে তাহমিদের মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কন্ঠে বিবি জোহরা বলেন,তাহমিদকে পরিকল্পিত ভাবে হত্য করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেন।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হোসেন জানান, হত্যার ঘটনায় পরিবার থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্ধে বিএনপির একই গ্রুপের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তাহমিদ নিহত হয়েছে। তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।