এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘সহায়’ হবে বিএসবির সংবর্ধনা

বিএসবির সংবর্ধনা পেলো প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী

সময়ের সাথে সাথে মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে। প্রতিটি পর্যায়ে আসে পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের সাথে সঠিকভাবে মানিয়ে না নিতে পারলে ভুল পথে চলার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সঠিক পথে চলতে দরকার হয় পরামর্শ কিংবা নির্দেশনা। সেটা পেলে পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া যেমন সহজ হয় তেমনি ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান গ্রুপ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং জীবন ঘনিষ্ঠ নির্দেশনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে যাচ্ছে।

বেশ আগ্রহ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নুরুন নাহার নামে এনজিও প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী এক মা। বুধবার (২২ মে) চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পুলস্থ সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে বিএসবি ফাউন্ডেশনের আয়োজিত সংবর্ধনায় এসে এসব কথা বলেন তিনি। সদ্য উত্তীর্ণ হওয়া মেয়ে তাসনিন আফরোজা জিনাতের সাথে এসেছেন তিনি। গত বছর একই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ছেলে নাহিদ রহমানকে নিয়ে।

নাহার-জিনাতের মতো আরও শত শত অভিভাবক-শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন এই সংবর্ধনায়। তারাও বলছেন এই সংবর্ধনা ভবিষ্যৎ চলতে অনেক পথ ‘খুলে’ দেবে। মূলত সংবর্ধনার সাথে সাথে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা উজ্জীবিত করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের। সেই সাথে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক বৈচিত্র্যময় মিলনমেলায় পরিণত হয় এই সংবর্ধনা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কনভেনশন সেন্টার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফুলের মাধ্যমে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারপর বিভিন্ন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ধারণা দেওয়া হয়। সেই সাথে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, খরচসহ যাবতীয় বিষয় আলোচনা করা হয়। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পুরো আয়োজন যেমন ছিলো শিক্ষামূলক তেমনি পূর্ণ ছিলো উৎসাহ উদ্দীপনায়।

এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘সহায়’ হবে বিএসবির সংবর্ধনা 1

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে যেতে আরও সহজ হবে—এমনটা উল্লেখ করে শাহরিয়ার রহমান নামে নগরীর অক্সিজেন এলাকায় বসবাসকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, এতদিন শুধু দেশেই পড়াশোনর বিষয়ে জানতাম। তাও সম্পূর্ণ ছিলো না। এখানে এসে বিদেশেও যে আমাদের পড়ার সুযোগ রয়েছে সে-সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেলাম। সেই সাথে নিজের ভবিষ্যৎ কিভাবে পরিচালনা করতে হবে সেসব বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পেয়েছি আজকের অনুষ্ঠানে।

জান্নাতুল মাওয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এতদিন মনে হতো আমি-ই সেরা। আমার থেকে মেধাবী আর কেউ নেই। এখানে এসে এত এত স্টুডেন্টস যে নিজেকে মনে হচ্ছে অনেক পিছিয়ে পড়াদের একজন। টিকে থাকতে হলে যেমন পড়াশেনা করতে হবে তেমনি সহ-শিক্ষামূলক কাজেও নিজেকে যুক্ত করতে হবে। আবার মেয়ে শিক্ষার্থীদের এবং সামনে বড় বড় আপুদের দেখে নিজের ভেতর পড়াশোনার আগ্রহ আরও বাড়ছে।

এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘সহায়’ হবে বিএসবির সংবর্ধনা 2

খলিলুর রহমান নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওকে সাথে নিয়ে এসেছি। সকাল থেকে এতগুলো ছাত্র-ছাত্রী দেখে সত্যি অনেক ভালো লেগেছে। এই অনুষ্ঠানে পড়াশোনা এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার বিষয়ক নানান দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যা শিক্ষার্থীদের সামনে চলার পথে অনেক কাজে আসবে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলার কাজে লেগে যেতে পারবে। এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার পাশাপাশি লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সে মতো এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, সারদেশে মাধ্যমিক এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিচ্ছে বিএসবি ফাউন্ডেশন। সংবর্ধনায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে স্কলারশিপ, মেডেল ও সার্টিফিকেট। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ১৫টি পৃথক ভেনুতে ১৮ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত চলছে এই সংবর্ধনা। সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীরা এসএসসি পাসের পর দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রামে ভর্তি, বিদেশে স্কুল-কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তথ্য সম্পর্কে জানতে পারছেন।

বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার বলেন, প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করছেন। এর পরে তারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিংবা মেডিকেলে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় অনেকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়তে পারেন না। আমরা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার পাশাপাশি উচ্চশিখ্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এসব পরামর্শ শিক্ষার্থীদের জীবন চলতে সহায়ক হবে।

এগিয়ে যাওয়ার পথে ‘সহায়’ হবে বিএসবির সংবর্ধনা 3

প্রসঙ্গত, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ (বিএসবি) ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শান্তির জন্য শিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা ও বৈশ্বিক সুযোগ- এ শ্লোগান নিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সুশিক্ষায় শিক্ষিতকরণের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে দেশের পাঁচটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৫টি ক্যাম্পাসে ক্যামব্রিয়ান কলেজের পাঠদান অব্যাহত আছে। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ক্যামব্রিয়ারে পথ চলা শুরু। রাজধানী ঢাকার মতো চট্টগ্রামের হালিশহরেও রয়েছে ক্যামব্রিয়ানের ডিজিটাল ক্যাম্পাস। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজ ফলাফলের দিক থেকে এই বোর্ডের অন্যতম শীর্ষ কলেজ।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।