কক্সবাজারে আমনের বাম্পার ফলন, উৎপাদন ছাড়াতে পারে লক্ষ্যমাত্রা

২০২৫–২৬ অর্থবছরে কক্সবাজার জেলায় উচ্চ ফলনশীল স্বল্পমেয়াদি, উফশী, হাইব্রিড ও দেশি জাতের রোপা আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে কৃষি প্রযুক্তি সহায়তা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সফলতার ফলে চলতি মৌসুমকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৭৮ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ফসল কর্তন হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন ধান। তুলনামূলকভাবে ২০২৪–২৫ আমন মৌসুমে জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সময়মতো পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন সম্ভব হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবহারে সঠিক নির্দেশনা দেওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে ফলন বেড়েছে। বর্তমানে মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা—কেউ ধান কাটছেন, কেউ শুকাচ্ছেন, আবার কেউ বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে মৌসুমের বাকি সময়েও ফসল কর্তনের গতি বজায় থাকবে। এতে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে তারা আশা করছেন।

উখিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ বলেন, এ বছর কৃষকরা ব্রি ধান ১০, ২৮, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৪, ৭৫, ১০০ ও ১০৩সহ বিভিন্ন হাইব্রিড ও উন্নত জাতের ধান চাষ করেছেন, যা ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রত্নাপালং ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহমদ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় নতুন উদ্ভাবিত স্বল্পমেয়াদি ব্রি ধান–১০৩ জাত চাষ করে ১২৮ থেকে ১৩৩ দিনের মধ্যে ধান কর্তন করা হচ্ছে। এ জাত থেকে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৬ দশমিক ৩৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।