কথা রেখেছেন ইউএনও, ঘর পেলেন বৃদ্ধ দম্পতি

উচু নিচু পাহাড়ি টিলায় বসবাস করেন শতবর্ষী বৃদ্ধ আব্দুল কাদের। তার সহধর্মিণী ও প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়েই দিনরাত কাটাতো এক কুঁড়েঘরে। তার এ করুণ পরিস্থিতি দেখে “বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তা দৃষ্টিগোচর হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। তারপর সেই পরিবারকে দেখতে গিয়ে একটি ঘর দেওয়ার কথা দিয়ে আসেন। অবশেষে সেই কথা রাখলেন ইউএনও।

বলছিলাম রাঙামাটির লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমানের কথা। চলতি বছরের এপ্রিলে উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জালালাবাদ এলাকার ওই বৃদ্ধের বাড়ি পরিদর্শনে যান তিনি। রোজার মাস উপলক্ষে করে দেন একমাসের নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার। এ সময় আব্দুল কাদের, তার সহধর্মিণী ও প্রতিবন্ধী ছেলে থাকার একটি ঘরের দাবি জানান ইউএনওর কাছে। আর ঘর দেয়ার কথাও দেন তিনি।

অবশেষে সেই কথা রেখেছেন ইউএনও আকিব ওসমান। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর থেকে এই বৃদ্ধ দম্পতিকে একটি ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। ঘর পেয়ে আপ্লুত হয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ওই দম্পতি।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে ঘর পেয়ে শতবর্ষী কাদের বলেন, আমার থাকার ঘর ছিলো না। ছয়-সাত মাস আগে ইউএনও স্যার আমাদের রোজার মাসের বাজার করে দেন। তখন একটি থাকার ঘরের দাবি করি। এখন আমাকে একটি ঘর দিয়েছেন। আমি খুব খুশি।

অপরদিকে আব্দুল কাদেরের সহধর্মিণী ও প্রতিবন্ধী ছেলে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ঘর পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। তবে আমরা কখনো ভাবি নাই, ইউএনও স্যার আমাদের পাকা ঘর দিবেন। কত চেয়ারম্যান, মেম্বারের কাছে গেছি—কেউ সাহায্য করে নাই। সবাই টাকার কথা বলতো। একবার এক সাংবাদিক আইসা ছবি তুইলা আর ভিডিও কইরা নিছে। তারপর ইউএনও স্যার নিজে আমাদের ঘর দিলেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নাই।

স্থানীয়রা বলেন, এমন অসহায় দরিদ্র পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা। ইউএনও স্যারের এ মানবিক কাজ উপজেলাবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও স্যারকে অনুসরণ করলে সমাজের রূপ পাল্টে যেতে সময় লাগবে না।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, গত কয়েকমাস আগে আমি গুলশাখালীতে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতি ও প্রতিবন্ধী পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলাম। পরে নতুন ঘরের বরাদ্দ পেয়ে তাদের দিয়েছি। তাদের ঘর দিতে একটু দেরি হয়েছে। তবে চতুর্থ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর তাদেরকে দেয়া হয়েছে। ঘরের কাজ এখনো কিছুটা অসম্পূর্ণ তবে দ্রুতই শেষ হবে।

ইউএনও আরও বলেন, লংগদুতে কেউ গৃহহীন থাকবেন না। যাদের থাকার ঘর নেই, পর্যায়ক্রমে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেয়ার জন্য।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।