চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। পদটি শূন্য থাকায় জমি কেনাবেচা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও থমকে গেছে। ফলে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের জনগণও ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ জুলাই এসিল্যান্ড রয়া ত্রিপুরা পাশ্ববর্তী উপজেলা পটিয়ায় বদলি হন। এরপর দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার। তিনিও মাত্র দুই মাসের মাথায় ২৯ জুলাই (সোমবার) অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নুর উল্লাহ নুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলি হন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ইউএনও হিসেবে। এরপর থেকে ভূমি কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকে। ৬ আগস্ট বুধবার এই উপজেলায় নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন সজীব কান্তি রুদ্র। এরপর থেকে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
চরপাথরঘাটা এলাকার ভুক্তভোগী মো. শাহ্ আলম বলেন, একটি মামলা নিয়ে আমি কয়েক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছি। এসিল্যান্ড শুনানির তারিখ ঠিক করেছিলেন, কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় আর তা হয়নি। গত এক মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। অফিসের কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কবে নাগাদ বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
শুধু সাধারণ মানুষই নন, দলিল লেখকরাও ভূমি অফিসের সেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন। কর্ণফুলীর দলিল লেখক মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, কর্ণফুলীতে জমি কেনাবেচা অন্যন্যা উপজেলা থেকে বেশি। অনেকে মেয়ে বিয়েসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে জমি বিক্রি করেন। আবার অনেকেই কিনেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে নামজারি, বাটোয়ারা এবং খাজনা পরিশোধ ছাড়া জমি হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। এসিল্যান্ড না থাকা এবং গত জুলাই থেকে জমি রেজিস্ট্রারী খরচ বেড়ে যাওয়ায় হয়রানির শেষ নেই মানুষদের।
ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, উপজেলার অধীনে ৫টি সহকারী ভূমি অফিস রয়েছে, যা এসিল্যান্ড দ্বারা পরিচালিত হয়। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় গত এক মাস এসব অফিসেও ভূমি সংক্রান্ত সেবা ব্যাহত হয়েছে।
শিকলবাহার ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মৌসুমি বড়ুয়া বলেন, নিয়মিত খাজনা আদায়সহ সকল ভূমি কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। নতুন ইউএনও স্যার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
বড়উঠান ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এসিল্যান্ড স্যার না থাকার কারণে শুধুমাত্র নামজারী, মিসকেস, শুনানীছাড়া অন্যান্য ভূমি কাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে হয়েছে। মানুষের একমাস কস্ট পেয়েছে। বর্তমানে ইউএনও স্যার দায়িত্ব পালন করছেন, আশা করছি কোনো ধরণের ভোগান্তি হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, ‘বর্তমানে ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আশা করছি শীঘ্রই সহকারী কমিশনার ভূমি যোগদান করবেন।’



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।