কিশোর ছেলের চুরির অপরাধে চেয়ারম্যানের হেনস্থার শিকার দুই মা!

0

দুই নারীর দুই কিশোর ছেলে চুরি করেছে এমন অভিযোগে দুই নারীকে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ঘটনার ৮ ঘন্টা পর পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের জিম্মায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

শুক্রবার (৬ মে) দুই পরিবারের পক্ষে পেকুয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মে) বিকালে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। এই ঘটনার পরিবারের পক্ষ থেকে দুই নারীকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় স্বজন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছেলে পানির মোটর চুরি করেছে এমন অপরাধে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণের ঝুম গ্রামের আহমদ হোসেনের স্ত্রী রাশেদা পেক (৩৬) ও মোজাহের মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ী থেকে সকাল ১০ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এসে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

তারা জানান, আগের রাতেও ওই দুই নারীকে পরিষদে ডেকে আরেক দফা মারধর করেছিল ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিলখালী ইউপি কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে ইউপি চেয়ারম্যান নিজের হাতে লাঠি নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন।

পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এসময় পুলিশ দুই নারীকে পরিষদ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগী নারী রাশেদা বেগম বলেন, তার ছেলে হুমায়নকে চুরির মিথ্যা অপবাদে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে পরিষদে নিয়ে সাথে। সাথে তিনিসহ অপর এক নারীকেও পরিষদে এনে আটকে রেখে মারধর করেছে।

ভুক্তভোগী নারী মনোয়ারা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান কামাল আমাদের আটকিয়ে রেখে লাঠির আঘাতে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করেন। এক পর্যায়ে স্টাম্প নেয়ার পর ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা না দেয়ায় ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিবেন বলে হুমকি দেন। আমরা চেয়ারম্যানের এমন ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিব।

শিলখালী ইউপির সদস্য আহমদ ছবি বলেন, দুই ছেলে বহু মালামাল চুরি করেছে। তাদেরকে থানায় এনে ছেলেদের হাজির করার জন্য বলেছি। ২০ হাজার টাকা করে জমা করার জন্য চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন যাতে পরে ক্ষতি পূরণ দেয়া যায়।

জানতে চাইলে মায়েদের নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ছেলেগুলো চোর। তাদের মাকে নিয়ে এসেছি ছেলেগুলোকে হাজির করার জন্য। আমাদের কাছে তাদের চুরির বিষয়ে অনেক অভিযোগ আছে। আমরা সমাধান করতে না পেরে ছেলেদের একজনকে পুলিশে দিয়েছি।

অনেক অভিযোগ হলে থানায় কেবল একজন কেন অভিযোগ করেছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান কোনো জবাব দিতে পারেননি।

পেকুয়া থানার এসআই মিন্নত আলী বলেন, জহিরুল ইসলাম নামে একব্যক্তি মিনার (১৭) ও হুমায়ুন কবির (১৭) নামে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে সেলো পাম্প চুরির অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা এক কিশোরকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি।

দুই কিশোরের মাকে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কোনো নারীকে আটকে রাখার বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চেয়ারম্যানকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন নারী নেত্রী ও কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী।
তিনি বলেন, জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সুশাসনের এই সোনালী সময়ে এমন ঘটনা বিষ ফোঁড়ের মতো। এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়েই শেষ নয়, এদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm