চট্টগ্রামের আকাশে একসঙ্গে উড়ল প্রায় এক হাজার ড্রোন। ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে আকাশজুড়ে ভেসে উঠল ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’-এর নানা ঘটনা ও স্মৃতি। গতকাল বুধবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ড্রোন প্রদর্শনী।
বিকেল ৫টায় ‘কথা ক’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সংগীত পরিবেশন করেন বে অব বেঙ্গল, ব্যান্ডদল চিম্বুক, শিল্পী হান্নান ও মাশা। পরিবেশনায় উঠে আসে স্বাধীনতার চেতনা ও গণপ্রতিরোধের সুর।
এরপর প্রদর্শিত হয় জুলাই অভ্যুত্থানভিত্তিক দুটি প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ ও ‘জুলাই বীরগাথা’।
সন্ধ্যায় কণ্ঠশিল্পী পারসা মাহজাবীন এবং জনপ্রিয় ব্যান্ডদল শিরোনামহীন সংগীত পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়ে তোলে। রাত ৯টায় শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ—ড্রোন শো। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ শোতে আকাশজুড়ে ভেসে ওঠে জুলাইয়ের নানা মুহূর্ত।
বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রীদের বেরিয়ে আসার দৃশ্য, যা আন্দোলনে নতুন গতি এনেছিল। শহীদ মিনারের ওপর এই দৃশ্য যখন আকাশে ফুটে ওঠে, দর্শকদের মধ্যে তখন নীরব বিস্ময়। ড্রোন শোর প্রথম অংশে তুলে ধরা হয়, কিভাবে জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, আর দ্বিতীয় অংশে ১৪ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের দৃশ্যপট।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড্রোন শো ছাড়াও ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতীকী ম্যারাথন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ‘২৪-এর গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা, শিশু শহীদদের স্মরণে গান-কবিতা-চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠান, ‘মাদারস অব জুলাই’ সমাবেশ, ‘জুলাই হিরোস’ সম্মাননা প্রদান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা সম্প্রচার।
আয়োজকদের আশা, এসব উদ্যোগ জুলাইয়ের চেতনা ও গণসচেতনতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।