চট্টগ্রামের সন্তোষসহ দেশে ফিরেছেন পাচার হওয়া ৫ বাংলাদেশি

0

ভারতে পাচারের শিকার হয়ে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে বাংলাদেশের আখাউড়া সীমান্তের চেকপোস্ট দিয়ে তাঁরা দেশে ফেরেন।

দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন-চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপেজলার সন্তোষ দেব, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপেজলার বিজয় চুন্নু, মানিকগঞ্জে সিঙ্গাইর উপেজলার ময়না বেগম, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপেজলার রোজনা বেগম এবং কুমিল্লার চান্দিনা উপেজলার কুলসুম বেগম।

ত্রিপুরার বাংলাদেশ সরকারি হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পাচারের শিকার ৫ বাংলাদেশি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মর্ডান সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৪জন সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। আর বিজয় চুনু মানসিকভাবে সুস্থ থাকলেও শারীরিকভাবে অসুস্থ রয়েছেন। তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেছে না।

ভারত থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, এই ৫ বাংলাদেশি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে আটক হন। এরপর আদালতের নির্দেশে আগরতলার নরসিঙ্গর এলাকার মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। সুস্থ হওয়ার পর তাদের নাগিরকত্ব যাচাই করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগাযোগ করে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য ভারত সরকারের অনাপত্তি সংগ্রহ করে আগরতলার সহকারী হাইকিমশন।

৫ বাংলাদেশিকে হস্তান্তরের সময় ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম এবং ফেরত আসাদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর তাদের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, যে ৫ বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরেছেন, তাঁরা কীভাবে ভারতে পৌঁছালেন তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁদের বাড়ি সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। তাঁদের পক্ষে একা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। এখানে পাচারকারী একটি চক্র সক্রিয় আছে। চক্রটিকে খুঁজে বের করতে হবে।

এমএফ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm