চট্টগ্রামে নালায় ডুবে চার বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে পাঁচজনই শিশু। অরক্ষিত খাল-নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়লেও সেবা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। তারা বলছেন, সমন্বয় ছাড়াই রাস্তা ও ড্রেন খোঁড়াখুড়ি এবং সিটি করপোরেশনের তদারকির অভাবেই ঘটছে প্রাণহানি।
শুক্রবার চট্টগ্রামের চকবাজারে নালায় রিকশা উল্টে মায়ের কোল থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায় ছয় মাস বয়সী শিশু সেহেরিশ। ১৪ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর নিথর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, নালার পাশে বেষ্টনী না থাকার কারণে রিকশা উল্টে পড়ে যায়।
এমন মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম না। বন্দরনগরীর উন্মুক্ত খাল ও নালায় পড়ে ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে ১০ জনের। ২০২১ সালের জুন মাসে চশমা হিলে খালে পড়ে মারা যান সুলতান ও খাদিজা বেগম। একই বছরের আগস্টে মুরাদপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ হন সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদ। সেপ্টেম্বর মাসে আগ্রাবাদে হাঁটার সময় খালে পড়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহবুব।
২০২২ সালের আগস্টে ষোলশহর এলাকায় পড়ে নিখোঁজ হন কামাল উদ্দিন। ২০২৩ সালের আগস্টে ইসলামিয়া হাট এলাকায় মারা যান নিপা পালিত; রঙ্গীপাড়া এলাকায় খালে পড়ে মারা যান ইয়াসিন আরাফাত। ২০২৪ সালের জুনে গোসাইলডাঙ্গায় পড়ে মারা যান সাইদুল ইসলাম। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে চাক্তাইয়ে মারা যান আজিজুল হাকিম। সবশেষ, চকবাজারে মারা গেল শিশু সেহেরিশ।
গত এক দশক ধরে নগরীতে জলাবদ্ধতা কমাতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প চলছে। বিভিন্ন প্রকল্পের খোঁড়াখুড়ি আর সিটি করপোরেশনের যথাযথ তদারকি না থাকায় ঘটছে এমন দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, নালার পাশে বেষ্টনী থাকলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর আশ্বাস যথাযথ বাস্তবায়ন হলে এসব মৃত্যু এড়ানো যেত। তাদের দাবি, বিপৎজনক খাল ও নালাকে নিরাপদ করতে বেষ্টনী দেওয়ার।
এদিকে, কাজে সমন্বয়ের অভাবের কথা স্বীকার করেন সিটি মেয়রও। বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছুদিন নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হলেও পরে তদারকি করে না কোনো সংস্থাই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এর জন্য সিটি গভর্মেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ।’



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।