চট্টগ্রামে ফিলিং স্টেশনে ভিড়, ট্যাংক ভরছেন চালকেরা

জ্বালানি তেল সংকটের গুজব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভিড় করছেন চালকেরা। অনেকেই আশঙ্কা থেকে আগেভাগে গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে নগরের চকবাজার এলাকার কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনেও প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও ছোট যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল সংগ্রহ করতে অপেক্ষা করছেন চালকেরা।

সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যেতে পারে—এমন খবর শুনে তিনি ট্যাংক পূর্ণ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, এখন তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাই আগেভাগে নিয়ে রাখছি। না হলে পরে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানান মোটরসাইকেলচালক আবদুল হান্নান। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তখনো তেল পাননি তিনি। তার সামনে আরও ৩০ থেকে ৪০টি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়েই প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন। তেলের সংকট হলে তার আয় বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন।

ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মীর খান জানান, স্বাভাবিক সময়ে তাদের স্টেশনে প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু গত দুই দিনে বিক্রি বেড়ে ২০ থেকে ২১ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। তার মতে, গুজব ও আতঙ্কের কারণেই চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে নগরের প্রবর্তক এলাকার আলহাজ ফয়েজ আহমদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসাইন জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হয়, সেখানে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৭ হাজার লিটার বিক্রি হয়েছে। ডিজেলের বিক্রিও বেড়েছে।

নগরের ষোলশহর এলাকার ফসিল ফিলিং স্টেশনেও দুপুরের পর গাড়ির সারি দেখা যায়। কর্মচারীরা জানান, সকালে তেমন চাপ না থাকলেও দুপুরের পর নতুন অনেক গ্রাহক এসে ট্যাংক ভরে নিচ্ছেন।

এদিকে সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঘিরে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে রাখছেন। তবে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তিনি জানান, তেলবাহী পাঁচটি জাহাজ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। ফলে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা নেই। প্রয়োজন হলে বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।