আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দলের মোট ১১৩ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই তারা প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, আপিল এবং প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এসব কেন্দ্রে রয়েছে ১২ হাজার ৩৯৮টি ভোটকক্ষ। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩৯ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ৭২২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬৯ জন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লিফলেট বিতরণ করা যাবে। মাইকিংয়ের সময়সীমা, মাইকের সংখ্যা এবং প্রচারের পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, বাস কিংবা লঞ্চে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয় এবং ১০২ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে আরও ১১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১৩ জন প্রার্থী।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।