চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন স্থায়ী করার দাবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা ঈদ স্পেশাল ট্রেনটিকে স্থায়ীভাবে নিয়মিত চালু রাখার দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

রোববার (২৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা স্পেশাল ট্রেনটি স্থায়ীভাবে চলাচলের যৌক্তিক দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সচেতন নাগরিকরা।

এতে কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি সালাউদ্দীন মো. রেজাসহ বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯৫৭ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেললাইনটির জন্য তৎকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন। ইতিহাসের সেই সূর্য সন্তানের পথেই আপনার সাহসী অগ্রযাত্রায় বনাঞ্চল, জমি, বাড়িঘর ভেদ করে মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে প্রায়ই বিশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আমাদের জন্য বিশাল এক পাওনা। ‘পর্যটন এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ নামক দুটি ট্রেন ঢাকা থেকে আগমন করছে যার ফলে মানুষ তার গন্তব্যে নিরাপদে ও নির্ভয়ে যাওয়া-আসা করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় যে, একটি ট্রেন বহু অনুরোধে বিশেষ ট্রেন হিসেবে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার লাইনে চলাচল করছিল।”

কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, “রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পারি এই বিশেষ ট্রেনটি ঈদে বাড়তি যাত্রী বহনে সুবিধা দিয়েছে মাত্র। গত ২৪ মে থেকে এই ট্রেনটি খুবই খোড়া যুক্তিতে বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে টিকেট বিক্রয় এরই মধ্যে বন্ধ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, দোহাজারী-কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের ওয়ার্কিং টাইমটেবিল ৫৩ নম্বর অনুসারে এখানে তূর্ণা এক্সপ্রেস, মহানগর গৌধুলী এক্সপ্রেস ও মেঘনা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাত্রী সেবা দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। পরে জনস্বার্থ অনুসন্ধানে জানতে পারি যে, প্রায়ই এক লাখ যাত্রী প্রতিদিন ট্রেন টিকেট পেতে ইচ্ছুক হয়েও অনলাইনে ব্যর্থ হচ্ছেন। চট্টগ্রামে বসবাসরত কমজীবী, সাধারণ নাগরিক, মেডিকেল সেবায় আগত রোগী, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তে নির্বাক। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রেলওয়ে জনগণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম ও লাভজনক খাত, যেখানে ৭২ থেকে ১৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত হাজার হাজার কিলোমিটার ট্রেন চলাচল হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা সচেতন মহল আমরা বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশ রেলওয়েকে অর্থনৈতিক ‘লাভহীন’ প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করবার জন্য রেলওয়েতে অবস্থানরত একটি ঘাপটি মারা কুচক্রিমহল যারা দেশের উন্নয়ন ও নাগরিক স্বার্থের বিরুদ্ধে নিজ স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন প্রাইভেট পরিবহন সংস্থার সাথে আঁতাত করে এডিবির সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পকে অলাভজনক ও অকার্যকর করার কাজে মেতে আছে। অথচ ৫৩ নম্বর টাইম টেবিলের এই তিনটি ট্রেন চট্টগ্রামে নয় ঘণ্টা করে বিরতিতে রয়েছে এবং বিশেষ ট্রেনের টিকিট বিক্রি প্রতিদিন এক ট্রিপে তিন লাখ টাকা। এই চক্রান্তকারীদের হাত থেকে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে চুক্তি অনুসারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য ট্রেন সেবা চালু করলে আমরা উপকৃত ও কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ হবো।”

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চালুর পর থেকে ট্রেনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রীদের চাপে এরপর দুই দফায় বিশেষ ট্রেনের সময় বাড়িয়ে ১০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১১ দিন আগেই গত ৩১ মে ইঞ্জিন ও জনবল সংকট দেখিয়ে থেকে ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১২ জুন এ রুটে পুনরায় ট্রেনটি চলাচল শুরু করে। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে। ট্রেনটি বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।