চট্টগ্রামে ফটিকছড়িতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের দাবীতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে মহাসড়ক অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘন্টা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
এর আগে, তারা বিবিরহাট বাসস্টেশন মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে জড়ো হয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন।অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।এতে তীব্র গরমে হাজারো যাত্রী অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। অপরদিকে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদর বিবিরহাট বাজার রোড অবরোধ করায় বাজারের বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিবিরহাট বাজার হওয়ায় এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ‘ফটিকছড়ির সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে এই অবরোধ হচ্ছে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বিবিরহাট বাসস্টেশনে সড়ক দখল করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা। অবরোধের কারণে আটকে পড়ে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িগামী শতশত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা। এসময় ওই এলাকায় সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। সড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এসময় যানজটে আটকে পড়া অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে যান। তীব্রগরমে মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী ও যাত্রীরা।
মো. ইলিয়াছ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে এ রকম রাস্তা আটকে আন্দোলন করার কী যুক্তি থাকতে পারে? এই আন্দোলন যদি জনগণের পক্ষে হয়, তাহলে কেন জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে?
সড়কে আটকে থাকা খাগড়াছড়িগামী বাসের যাত্রী জুয়েল চাকমা বলেন, সড়ক বন্ধ করে এ কেমন আন্দোলন? প্রায় ১ ঘন্টা ধরে এ গরমে আটকে আছি!
চট্টগ্রাম শহরগামী শান্তি পরিবহনের বাসচালক মোঃ এনাম বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছেন। বাসে ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী রয়েছে। অবরোধের কারণে যথাসময়ে চট্টগ্রাম পৌঁছানো নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নি়র্বাহী কর্মক়র্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের আলোচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
আন্দোলনকারী আকিব হাসান মাহি বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের ১২ দফা দাবীতে আমরা গত এক সপ্তাহ ধরে নানা কর্মসূচী পালন করলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কোন কর্ণপাত করেনি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা না হলে আমরা ফটিকছড়ির মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলব।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।