চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ক্যামব্রিয়ান কলেজের ২য় স্থান অর্জন

0

শতভাগ পাসের মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও ক্যামব্রিয়ান কলেজ চট্টগ্রাম কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের মধ্য দিয়ে এ কলেজটি এখন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ঈর্ষণীয় স্থানে অবস্থান করছে। শতভাগ পাসের ভিত্তিতে এবছর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ক্যামব্রিয়ান কলেজ, চট্টগ্রাম ২য় স্থান অধিকার করে (১ম স্থান চট্টগ্রাম কলেজ)।

২০১৪ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ক্যামব্রিয়ান কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতি বছরই এ কলেজটি ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম সারির কলেজগুলোর সাথেই সমান তালে অবস্থান করে আসছে। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে শতভাগ পাসের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে চমক সৃষ্টি করে।

এবছর ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে ২৩৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২০ জন জিপিএ-৫ সহ শতভাগ পাস নিশ্চিত করে (A+ : 120 জন, A : 115 জন, A– : 03 জন)।

কলেজটির অধ্যক্ষ মাহবুব হাসান লিংকনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ নিয়ে ভর্তি হলেও এখানকার নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়ার কারণে ৬ গুণ বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। তিনি বলেন, এ কলেজে প্রতিদিন ৭টি ক্লাসের পর দুর্বল শিক্ষার্থীদেরকে বিকেলে SSP ক্লাসের মাধ্যমে পুনরায় পাঠদান করা হয় যাতে শিক্ষার্থীদেরকে বাইরে কোথাও প্রাইভেট পড়তে না হয়। অতিরিক্ত দুর্বল শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজন মোতাবেক রাতের বেলায় অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কলেজে পড়ালেখা করার সুবিধাও দেওয়া হয়। একারণেই কলেজটিতে শিক্ষার্থীরা যে জিপিএ নিয়ে ভর্তি হয় তার চেয়ে ভালো জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করে।

অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার লেখাপড়ার সিস্টেম এবং ফরমেট খুবই চমৎকার। প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদেরকে ফিঙ্গার পাঞ্চ করে কলেজে প্রবেশ করার সাথে সাথে অভিভাবকের মোবাইলে খুদে বার্তা চলে যায় এবং কলেজ ছুটির পরও শিক্ষার্থীদের ফিঙ্গার পাঞ্চ করতে হয়। এতে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের কলেজে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে কলেজ থেকে ফোন করে অভিভাবকদের জানানো হয় এবং শিক্ষার্থী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিনিয়তই যাচাইয়ের মধ্যে রাখা হয় এবং সময়মতো অভিভাবকদেরকে জানানো হয়।

কলেজের শিক্ষকরা বলেন, এখানে অত্যন্ত আন্তরিকপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করা হয়। যার ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয়ে বুঝতে সামান্যতম অসমর্থ হলেও বিনা সংকোচে প্রশ্ন করতে পারে যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সর্বোপরি শিক্ষার মান ও গুণগত উন্নয়নে ক্যামব্রিয়ান কলেজের পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়।

উল্লেখ্য ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে ৭৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১১ জন শিক্ষার্থী A+ পায় যার মধ্যে এসএসসিতে A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ছিল ৮৬ জন এবং আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ জন শিক্ষার্থী A+ পায় যার মধ্যে এসএসসিতে A+ ছিল ১৩ জন শিক্ষার্থীর।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm