চবিতে এভারেস্ট জয়ের গল্প শোনালেন ডা. বাবর আলী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং পৃথিবীর চতুর্থ উচ্চতর শৃঙ্গ লোৎসে পর্বত জয়ের গল্প শুনিয়েছেন চট্টগ্রামের ছেলে ডা. বাবর আলী। মঙ্গলবার (৪ জুন) দেশ বরেণ্য ৭ বিশিষ্টজনের সাথে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রোমাঞ্চকর সেই গল্প শুনান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডা, বাবর আলীর মতো নিজেদের গল্প শুনিয়েছেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, প্রখ্যাত বিতার্কিক ও উপস্থাপক ডা. আব্দুন নুর তুষার, গীতিকার ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব আসিফ ইকবাল, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া এবং মিস বাংলাদেশ-২০০৭ বিজয়ী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।

ডা. বাবর আলী বলেন, এভারেস্টের উচ্চতা বেশি, কিন্তু লোৎসে আরোহণ তুলনামূলক কঠিন। এই দুই পর্বতের শিখর থেকে দেখা নিচের পৃথিবীর দৃশ্য এ জীবনে বিস্মৃত হওয়া সম্ভব নয়। আমি এভারেস্ট শীর্ষে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট অবস্থান করি। এটা ছিল অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। চূড়া থেকে নেমে আসার সময় এক আহত পর্বতারোহীর জন্য মানবজটের সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় আমাকে। সেখানে অর্থাৎ সেই উন্মুক্ত এলাকায় শুরু হয় তুষারঝড়ও। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি আমাকে হতে হয়নি।

তিনি বলেন, এভারেস্টে চড়ার পথে প্রকৃতি আমাদের নানান শিক্ষা দেয়। আমরা স্বাভাবিকভাবে বনসাই করতে কত কাঠখড় পোড়াই। হিমালয়ে জুনিপার বৃক্ষ আপনাতেই বনসাইয়ে রূপ নেয়। মূলত অতি উচ্চতায় তাপ ধরে রাখতে গাছটি নিজের আয়তন কমিয়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট এবং লোৎসের চুড়ায় উঠে যখন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছি, তখন ওপরে ওঠার সব কষ্ট ভুলে গেছি। হিমালয়ের এভারেস্ট এবং লোৎসের চূড়ায় দেশের পতাকা ওড়াতে পেরে আমি গর্বিত।

এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, দেশের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বক্তৃতার আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সরাসরি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শোনার সুযোগ পায়। যা থেকে তরুণরা নিজেদের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাবে।

উপাচার্য আরও বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগর। দেশের দিকপালদের বর্ণাঢ্য জীবনাদর্শ অনুসরণ করে তরুণরা যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে মানব কল্যাণে ছড়িয়ে দিয়ে দেশ-জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চবি উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে, চবি মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও আবুল খায়ের গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এ এন এম ওয়াজেদ আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. অলক পাল।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।