চবিতে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরে কমিশন বরাবর জমা দেওয়া হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে তিনজনের একটি টিম এই অভিযান শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সময়কালের নিয়োগসংক্রান্ত নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় কয়েকশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দুদককে চবিতে স্বাগত জানিয়েছি। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের প্রশাসনে এ পর্যন্ত গত দেড় বছরে কোনোপ্রকার অনিয়ম হয়েছে বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমরা চাই, দুদকের টিম প্রতিনিয়ত আসুক, স্বচ্ছতা যাচাই করুক।

তিনি বলেন, এই প্রশাসনের আমলে সর্বমোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। এরমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এমন ছিলো, যারা ওই পদে আগে থেকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন, তাদেরকে স্থায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা চবিতে আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি। সেজন্য, অনেক বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ করা প্রয়োজন ছিলো। তবে, চবিতে এ পর্যন্ত যতো নিয়োগ হয়েছে একটিতেও কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারবে না।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।