শতভাগ আবাসন, চাকসু নির্বাচন, ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারসহ মোট ৭ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রশিবির। দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্য ব্যানারে ক্যাম্পাসে এ ধরণের কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে সংগঠনটিকে। মিছিলে দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
সোমবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ভবনের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এরপর মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন হয়ে শহিদ মিনার অতিক্রম করে কাটা পাহাড় হয়ে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানেও একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘শিবিরের অপর নাম, আদর্শের সংগ্রাম, ‘আমার তোমার অধিকার, চাকসু চাকসু’, ‘জনে জনে খবর দে, সেশন জটের কবর দে’, জুলাইয়ের প্রশাসন, দাও শতভাগ আবাসন’, ‘চবি শিবিরের কয় দফা, সাত দফা সাত দফা’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।
এ সময় সংগঠনটির সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা এবং আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা প্রদান করা, সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনতিবিলম্বে সেশনজট নিরসন এবং শিক্ষার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা, অনতিবিলম্বে চাকসু নির্বাচন দেয়া, দ্রুত সময়ের মধ্যে টিএসসি স্থাপন, সেন্ট্রাল অডিটোরিয়াম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং আবাসিক হল ও অন্যান্য স্থাপনাসমূহ সংস্কার করা।
এছাড়া জুলাই বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শিক্ষার্থীদের স্থায়ী বহিষ্কার এবং জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা ও বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অবৈধ নিয়োগের সাথে জড়িত সকলের বিচার এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিচ্যুত করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ড.ইউনুস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এসেছিল, কিন্তু সুশীল-এনজিও মার্কা প্রশাসন তার কাছ থেকে কোন কিছুই আদায় করতে পারে নাই। অতিদ্রুত প্রধান উপদেষ্টাকে বুঝিয়ে আমাদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। সেশন জটের তীব্র করাল ঘ্রাসে অনেক সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এভাবে তাদের ক্যারিয়ার আজ ধ্ব্যসের মুখে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রয়েছে। তারা আমার ভাই মুজাহিদ-মাসুদকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মামুনকে জবাই করে এবং জোবায়েরকে গুলি করে হত্যা করেছে। তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছে। অতিদ্রুত ফ্যাসিবাদের দোসরদের ক্যাম্পাস থেকে বের করতে হবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, চবি শিবিরের সাত দফা শুধু আমাদের নয়, এগুল প্রতিটি চবিয়ানদের প্রাণের দাবি। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
তিনি আরো বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জুলাইয়ের উপর আসা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অধিকারগুলো পূরণ করবে, কিন্তু তারা কিছু কাজ করলেও অনেককিছুই পূরণ করেননি। আমরা এতদিন দেখেছি, এখন আর বসে থাকব না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ ইব্রাহিম রনি এবং শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক খলীল আনোয়ার।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।