চবির ডিন নির্বাচন থেকে শেষ মুহুর্তে সরে দাঁড়ালেন অধ্যাপক জাকির

0

আগামীকাল বুধবার (৩০ মার্চ) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচন। নির্বাচন থেকে শেষ মুহুর্তে নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি আওয়ামি লীগ ও বাম মতাদর্শের অনুসারী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি, গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি ও ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ডিন নির্বাচন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এতে তিনি নিজেকে ভোট না দেয়ার জন্য ভোটারদের অনুরোধ জানান।

জানা গেছে, আইন অনুষদের নির্বাচনে হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পরেও ডিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এই কারণেই অধ্যাপক মোহাম্মদ জাকির হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আগামি ৩০ মার্চ ২০২২ আইন অনুষদের ডিন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত আছে। উক্ত নির্বাচনে আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মো. জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক দুইজন প্রার্থী রয়েছি। গত ২৩ মার্চ ২০২২ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুককে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করে প্রজ্ঞাপন জারী করা হলেও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক উপাচার্য হিসাবে যোগদান না করে আইন অনুষদের ডিন নির্বাচনে তাঁর প্রার্থীতা বহাল রেখেছেন। কাউকে উপাচার্য নিয়োগের আগে তার কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়। চাহিদা অনুযায়ি জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার মানে তিনি নিয়োগে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন। তাই নিয়োগের রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিতভাবে না জানানোর আগে পর্যন্ত তিনি এই নিযোগ গ্রহন করেছেন বলে পরিগণিত হয়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিস্ট্রার হিসাবে আপনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক আপনাকে জানিয়েছেন যে, তিনি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে যোগদান করবেন না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, উপাচার্য হিসাবে যোগদানের চেয়ে ডিন পদ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুকের কাছে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। আমি ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শিক্ষকদের ফোরাম হলুদ দলের সদস্য। হলুদ দল আমাকে ডিন নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিলে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন। এতেও প্রমাণিত হয় ভিন্ন পদের প্রতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুকের গভীর ভালোবাসা ও সমন্ববোধ রয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, আমি এবারের ডিন নির্বাচনে হলুদ দলের মনোনিত প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অপরদিকে প্রশাসনের অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ হয়ে ভোটাদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যার ফলে অনুষদের সহকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও হানাহানিমূলক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের আইন শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান চবির আইন অনুষদের একজন শিক্ষক হিসেবে কখনোই চাই না যে অনুষদে হানাহানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

তাই আমি আইন অনুষদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দিকটি বিবেচনা করে নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো চিঠিটি আমরা পেয়েছি। কিন্তু আমরা ২০ মার্চ পর্যন্ত ডিন নির্বাচনের প্রার্থীতা বাতিলের সুযোগ দিয়েছিলাম। এর পর প্রার্থীতা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অধ্যাপক জাকির হোসেনের নামে ব্যালট পেপার ঠিকই থাকবে। তিনি যদি নির্বাচনে অধিকাংশ ভোট পেয়ে থাকেন তাহলে তিনিই নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবে। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি করবেন না সেটা উনার ব্যাপার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm