চট্টগ্রাম নগরীতে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। সরকারি-বেসরকারি ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো জানাচ্ছে, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষায় ৭০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। অথচ সরকারি হাসপাতালে নেই পরীক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা, সচেতনতা কার্যক্রমেও রয়েছে চরম ঘাটতি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই। ফলে উপসর্গ দেখা দিলেও রোগীরা যাচ্ছেন বেসরকারি ল্যাবে, যেখানে প্রতিটি পরীক্ষার জন্য গুণতে হচ্ছে গড়ে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। এতে একদিকে বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে।
সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ জনের মতো হলেও, বাস্তবে সংখ্যা অনেক বেশি। বেসরকারি এপিক হেলথকেয়ার সেন্টার একাই গত দুই সপ্তাহে ৩১৬ জন রোগী শনাক্ত করেছে, যেখানে শনাক্তের হার প্রায় ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, আইইডিসিআরের একটি সাম্প্রতিক জরিপ বলছে—চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঝুঁকির মাত্রার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ করে পাহাড়তলী ও আগ্রাবাদে এডিস মশার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মশক নিধনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অভিযান অনেকটাই ঢিলেঢালা।
চিকুনগুনিয়া সরাসরি প্রাণঘাতী না হলেও এটি শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি তৈরি করে। অনেক সময় রোগমুক্তির পরও মাসের পর মাস গাঁটের ব্যথা থেকে যায়। এই অবস্থায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানো ও পরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কবে, কীভাবে—সে প্রশ্নের জবাব এখনো অস্পষ্ট। এ অবস্থায় নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকতে ও মশার বিস্তার ঠেকাতে নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।