খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগকারী একটি জরাজীর্ণ কালভার্ট দীর্ঘ এক যুগ ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কালভার্টের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত। স্থানীয়রা বলছেন, কালভার্টটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের বৃষ্টিপাত ও বন্যায় এর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে এবং দেয়াল ভেঙে গিয়ে এটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এক দশকের বেশি সময় ধরে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী রাখছেন।
মুবাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কালভার্ট দিয়ে যাতায়াত করি। সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেলে চলাও কষ্টকর। বর্ষা আসলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথটি শুধুমাত্র মুবাছড়ি নয়, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের করল্যাছড়ি, সাবেক্ষংসহ আশপাশের গ্রামের মানুষেরও একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। কাপ্তাই লেকের পানি বাড়লে বিকল্প পথটিও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এলজিইডির খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা বলেন, ব্রিজটি দীর্ঘদিন আগে নির্মিত এবং বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। আমরা চেষ্টা করছি বর্ষার আগেই কাজ শুরু করতে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।