চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে পাহাড় ধ্বংস করে দখলে থাকা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করবে সরকার। এজন্য কক্সবাজারে নির্মিত দেশের সর্ব বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প খুরুশকুলকে মডেল হিসেবে প্রস্তাব গেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
বিষয়টি চট্টগ্রাম খবরকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, জঙ্গল ছলিমপুরে সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। এতে আমরা প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিবো। এত দিন পাহাড় যা ধ্বংস হওয়ার হয়েছে। পাহাড়ে যেন আর একটি কোপও না পড়ে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতি প্রেমি মানুষ। তিনি সব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রকৃতি সুরক্ষার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সীতাকুণ্ডের প্রকৃতি রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিচ্ছি। সেখানে থাকা সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হবে। তবে যারা প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তু রয়েছে তাদের আমরা পুনর্বাসন করবো।
বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে কীভাবে পুনর্বাসন করা হবে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা সার্ভে করছি। কারা দখলদার আর কারা জলবায়ু উদ্বাস্তু। এতে প্রকৃত জলবায়ু উদ্বাস্তুদের তথ্য আমরা পাবো। দেশের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্প কক্সবাজারের খুরুশকুলের আদলে বহুতল ভবনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রস্তাব আমরা দিয়ে রেখেছি।
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সরকার নিয়োজিত দক্ষ একদল স্থপতি ছলিমপুরকে নিয়ে নকশা প্রণয়নের কাজ করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা দেখেছেন গত ১ জুলাই মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ স্যারসহ আমরা ছলিমপুর ভিজিট করেছি। সরকারের সর্বোচ্চ মহল চায় জঙ্গল ছলিমপুর রক্ষা পাক। তাই দেশের নামকরা স্থপতিদের একটি টিম ছলিমপুর নিয়ে কাজ করছে।
নকশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখানো হবে জানিয়ে ডিসি মোমিনুর রহমান বলেন, স্থপতিদের তৈরি করা নকশা আমরা সবার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এতে আরও কোনো কারেকশন দেন সেটা করে তাঁর অনুমোদন নিয়ে পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, জঙ্গল ছলিমপুর ছিল এক সময়ে দাগী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। নিজেদের আশ্রয়কে নিরাপদ করতে পাহাড় কেটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের কাছে কম দামে সরকারি জমির দখল বিক্রি করতো সন্ত্রাসীরা। আর নগরীর অসংখ্য বস্তীর নেতারা সেখানে বিভিন্ন সমিতির নামে করেছেন পাহাড় উচ্ছেদ। সব কিছু জেনেও চট্টগ্রামের প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক।
বর্তমান জেলা প্রশাসন নগর থেকে কারাগারসহ বিভিন্ন দফতর স্থানান্তরের পাশাপাশি বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল, আইকনিক মসজিদ, বেতার ভবন, জাতীয় তথ্য কেন্দ্র, নভোথিয়েটার, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো পরিকল্পনায় ইকো সিস্টেম রক্ষাকেই প্রাধ্যন্য দেওয়া হচ্ছে। থাকছে প্রাণ প্রকৃতির অভয়ারণ্য ইকোপার্কও।


