চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে কারখানার ভেতরে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে শ্রমিক নিহতের ঘটনা জানেনা কারখানার নির্বাহী পরিচালক আলমা শিমুল।
নিহতরা হলেন, জেলার সীতাকুণ্ডের সুলতানা মন্দির এলাকার রোকনুজ্জামানের ছেলে মো. মোস্তফা (২৫) ও মিরসরাই উপজেলার ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের করুয়া এলাকার শামসুল হকের ছেলে রিফাত (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা গেছে, কারখানার ভিতরে এসির কাজ করার জন্য কমপেশার মিশিন নিয়ে ইলেকট্রিক্যাল হোয়েস্ট করে চতুর্থ তলায় উঠতে গেলে নিচে পড়ে যায় নিহত শ্রমিকরা। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যু বলে নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার নির্বাহী পরিচালক আলমাস শিমুল জানান, ২ জন শ্রমিক মৃত্যুর বিষয়ে কিছু জানি না। তিনি কারখানার বাহিরে বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, কাজ করার সময় জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জিপিএইচ ইস্পাতের মিডিয়া এডভাইজার ওসমান গনি চৌধুরি বলেন, আজ সকাল ১০টা নাগাদ জিপিএইচ ইস্পাতের ইসিআর ভবনে আকস্মিক এবং অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনে অবস্থিত ৫০০ কেজি ভারবহনে সক্ষম মালামাল উত্তোলনকারী হোয়েস্টটি অতিরিক্ত ভারের কারণে ছিঁড়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হোয়েস্টটির অতিরিক্ত ভারের কারণে ছিঁড়ে যায় এবং ২ জন কর্মী আহত হন। দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথে জিপিএইচের এম্বুলেন্সের সাহায্যে আহত দুই কর্মীকে জিপিএইচ মেডিকেল টিমের সদস্যসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দু’জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বলেন, এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জিপিএই’র পক্ষ থেকে আমরা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। দুইজন মূল্যবান কর্মীর অকাল মৃত্যুতে জিপিএইচ কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। জিপিএইচ ইস্পাত সব সময় কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি জিপিএইচ পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
আমরা বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।