বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এর মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বান্দরবান, যেখানে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে। সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল মাল্টিডাইমেনশনাল পোভার্টি ইনডেক্স ফর বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। বয়সভিত্তিক হিসাবে শিশুদের মধ্যে এই হার প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি। পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্টারনেট সংযোগসহ ১১টি সূচক ব্যবহার করে দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বান্দরবান সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার চৌধুরী মনে করেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। “আনারস বা আমের জুস প্ল্যান্ট স্থাপন করা গেলে স্থানীয়দের আয় বাড়বে,” বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। “পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এর সুফল খুব শিগগিরই দেখা যাবে,” বলেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণ, কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিলে বান্দরবানের ১২ সম্প্রদায়ের মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।