নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট আসক্তি– আত্মগোপনে থাকা কিশোরকে খুঁজে দিলো র‌্যাব

0

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পাবজি, ফ্রি-ফায়ার গেমসে আসক্ত অভিক দে (১৫) নামের এক কিশোরকে তার বাপ-মা শাসানোর ফলে অভিমানে ঘর ছাড়ে। দীর্ঘ পাঁচ মাস অভিক দে নাম পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকে। অবশেষে র‌্যাব তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

শনিবার (৭ মে) বিকেলে র‌্যাব-০৭এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএ ইউসুফ এক সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। অভিককে শুকবার চান্দগাও থানা এলাকার একটি গেস্ট হাউজ থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় অভিক দে তাদের চকবাজার ডিসি রোডের বাসায় গেম খেলছিল। তখন তার পিতা তাকে বকা দেয়। এরপর অভিক ঘর ছাড়ে। কিশোর অভিক নাম ঠিকানা বদলে কোথাও হোটেল-রেস্টুরেন্টে বয়ে কাজ নেয়।

অভিক নিরুদ্দেশ হলে তার পরিবার চকবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। পাঁচ মাসের মাথা আসলো সফলতা।

অভিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার গেমস খেলছিল। তখন তার বাবা-মা তাকে বলে ‘লেখা পড়া বাদ দিয়ে গেমস খেলছো কেন’। এক পর্যায়ে তার বাবা রাগের মাথায় বলে ‘তোমার রোজগার তুমি করে খাও’। এই কথা শোনার পর অভিক দে তার বাবা মার সাথে রাগ করে কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

র‌্যাব অধিনায়ক লে. কর্নেল ইউসুফ আরও জানান, অভিক দে প্রাপ্ত বয়স্কদের একটা গ্রুপের সাথে চলাফেরা ছিলো। এই গ্রুপে অভিক দে অপহরন মামলার তিন আসামী হান্নান, লিও দাস ও জয়ের নাম রয়েছে। হান্নান ইউরোপের পোল্যান্ড থাকে এবং জয় থাকে কাতারে।

মূলত এরা বিশেষ করে যখন দেশে ছুটিতে থাকে তখন এ উশৃঙ্খল ও বিকৃত রুচির গ্রুপের কার্যক্রম বেড়ে যায়। নিখোঁজের সময় হান্নান ও জয় ছুটিতে ছিল। এ গ্রুপের সদস্যরা পরস্পর এডাল্ট ভিডিও শেয়ার করত ও ইন্টারনেট পর্নোগ্রফিতে আসক্ত ছিল।

পাবজি খেলার পাশাপাশি অভিক দে এসবে আসক্ত হয়ে পড়ে। সে গোপনে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক একাউন্ট চালাত ও বেনামি ৫/৬ টি সিম ব্যবহার করত। পড়াশুনা প্রায় ছেড়ে দিযে সে সারাদিন এসব নিয়ে পড়ে থাকত বলে বাবা-মা কড়া শাসন শুরু করলে সে তার গ্রুপের অন্যান্য এডাল্টদের মত স্বাধীনতার খোঁজে বাড়ি হতে বের হয়ে যায়।

অভিক রাউজানের ডাবুয়া এলাকার প্রভাস দের ছেলে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে তার মা-বাপ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm