নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের নাহারখিল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিকেলে বিভিন্ন এলাকার দিক থেকে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে করে মুখোশ পরে দুর্বৃত্তরা মো. জাহাঙ্গীর আলমের গ্রামের বাড়িতে হামলা করে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের সব কয়টিতে কক্ষে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট করে। এছাড়াও ২ টিনের ঘরেও তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। বাড়িতে তার ০৪ ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু অস্ত্রের মুখে তাদেরকেও প্রাণনাশের হুমকি দিলে তারা জীবন বাঁচাতে পরিবারসহ বাড়ী ছেড়ে চলে যান।

এদিকে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আশপাশের এলাকার বাসিন্দা, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এসে আগুন নেভায়।
জানা গেছে, গত ১৮ জুন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা উপলক্ষে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ যান আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম। গত ৩০ জুলাই দেশে ফেরত টিকেট থাকলেও স্ত্রী ও সন্তানের অসুস্থতার কারণে দেশে ফেরা বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে দেশের উদ্ভুত অস্থিতিশীল পরস্থিতির কারণে দেশে না এসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন তিনি।

এসব বিষয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, আমাকে আমার বাড়ির লোকজন ফোন করে বলেন অতর্কিতভাবে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল করে দূর্বৃত্তরা মুখে মুখোশ পরে এসে এ হামলা চালায়। প্রাণনাশের ভয় ও আতঙ্কে লোকজন পালিয়ে যায়। পরে তারা আমার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। এলাকার আশপাশ থেকে লোকজন এসে আগুন নেভায়।

তিনি আরও বলেন, আমার ০৪ ভাই পরিবারসহ জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যায়। দেশে ফিরলে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে, তাই পরিবারসহ নিজের জীবনহানির শঙ্কা থাকায় দেশে না গিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছি।
এ বিষয়ে চাটখিল থানা অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে সবাই মুখোশ পরায় কে বা কারা করেছে তা এ মুহূর্তে জানা যায়নি।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।