নৌকা বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ মাঝি, স্বজনদের আহাজারি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে জাহাজের সঙ্গে নোঙর করে রাখা নৌকা বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মোহাম্মদ জাবের (৪০) নামে এক মাঝি। গতকাল বুধবার রাতে কর্ণফুলী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ মাঝি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ১ নম্বর ওয়ার্ড বাইট্টাগোষ্ঠীর বাড়ির মৃত শরীফ আলীর পুত্র। তার সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে ছেলে শহিদুল ইসলাম জনি (১৬) এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি উপজেলার কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা শেষে কান্নাজড়িত কন্ঠে ছেলে শহিদুল ইসলাম জনি বলেন, সারারাত বাবাকে নদীতে খুঁজেও কোনো সন্ধান পাইনি। এখনও পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি নদীতে খোঁজতে। আমরা প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিখোঁজের ছোট ভাই মীর আহমদ বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও আমার ভাই কর্ণফুলীর নদীর খোলাগাঁও জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগাং লিমিটেড জেডি এলাকায় জাহাজের লোকজন ও তাদের পণ্য যাতায়াত করছিল। রাতে ঘটনাস্থলে দুই কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ভাসতে দেখে তার সহকর্মীরা। এরপর ভাইয়ের মেবাইলের ফোন দিলে জাহাজের কর্মচারীরা রিসিভ করে জানান, সন্ধ্যার দিকে আমার ভাই নৌকা বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। ঘটনার পর আমরা সারারাত নদীতে ভাইকে খুঁজেও পাইনি। থানা পুলিশ বা নৌ-পুলিশের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।

জাহাজটির চালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বিকেলে নৌকাটি জাহাজের সঙ্গে রশি বেঁধে নোঙর করে রাখে মাঝি জাবের। হঠাৎ নৌকার রশি ছিঁড়ে গেলে নৌকাটি রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দেন মাঝি। আমরা একাধিকবার বারণ করার পরও শুনেননি তিনি। আমাদের জাহাজটি লোড থাকার কারণে আমরা সেখান থেকে চলে যাই এবং তার পরিবারকে খবর দিই।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরাম উল্লাহ বলেন, নিখোঁজ মাঝিকে উদ্ধারে তাদের স্বজন ও পুলিশের টিম কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যে জাহাজটিতে তিনি কাজ করতেন সে জাহাজে নৌকাটি বেঁধে রেখেছিল। রশি ছিঁড়ে গেলে নৌকাটি রক্ষা করতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।