চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
গত শুক্রবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ১৩(৫) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধারায় বলা আছে,সিন্ডিকেট কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বিভাগের ৪১৯ নম্বর কোর্সের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে আসে, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্রশ্নপত্র হুবহু মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলে যায়। অভিযোগের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে উপস্থিত হন এবং যাচাই করে দেখা যায়, পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরে সিন্ডিকেট সভায় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। তদন্তে প্রমাণিত হয়—প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে পরীক্ষার আগেই এবং এতে পরীক্ষা কমিটির সভাপতির গাফিলতি রয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেছিলেন, কম্পোজ করার জন্য প্রশ্নটি গুগল ড্রাইভে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই হয়তো বেহাত হয়ে থাকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে রিপোর্টে উল্লেখ করে—প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির যথাযথ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা ছিল না। যা চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব অবহেলার শামিল।
সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অপর সদস্য ড. নঈম উদ্দিন আওরঙ্গজেব বলেন, তার সদস্যপদ ১ আগস্ট শেষ হয়েছে এবং বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা কমিটির সভাপতি আলী আসগর চৌধুরীকে আগামী দুই বছর পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের মৌন মিছিলে অধ্যাপক আলী আসগর চৌধুরী প্রথম সারিতে ছিলেন। তখন তিনি ছাত্রদের দাবির বিরোধিতায় স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।