অন্য ফসলের চেয়ে খরচ কম এবং বেশি লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলি চাষ করে সফল্যে পাচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকরা। এজন্য দিন দিন পার্বত্য জেলার রাঙামাটিতে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ব্রোকলি চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। কৃষকদের আগ্রহ দেখে ব্রোকলির উৎপাদন সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ এরই মধ্যে নিয়েছব নানা উদ্যোগ।
জানা গেছে, ক্যান্সার প্রতিরোধী এই সবজি উন্নত বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও দেশে এখনও পর্যন্ত খুব একটা জনপ্রিয় নয়। তবে ধীরে হলেও খাদ্য তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে সবজিটি। প্রথমদিকে এই সবজি চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহী না থাকলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গত বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চাষের পর মিলেছে সাফল্য। এ বছর রাঙামাটির লংগদুতে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি জমিতে ব্রোকলির চাষ করা হয়েছে।
এই সবজি চাষে কৃষি বিভাগের সহায়তায়, কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম ও গাউসপুর-রাঙ্গীপাড়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রওশন জাহান বিপাশা।
উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের গাউসপুর এলাকার ব্রোকলি চাষি মোশতাক আহমেদ দুলন বলেন, ইউটিউব দেখেই ব্রোকলি চাষে উদ্ধুদ্ধ হই। যদিও এ অঞ্চলে এটা খুব বেশি পরিচিত সবজি না। তাই ব্রোকলির বাজার নিয়ে প্রথমদিকে সন্দেহ ছিল। আমি এক একর জমিতে ৪ হাজার ব্রোকলির চারা লাগিয়েছিলাম। এতে ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে, তবে চাহিদা বাড়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। আগামীতে চাষের পরিমাণ আরো বাড়াবো।
তিনি আরও বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। রোগ বালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় এটি অনেকটাই কীটনাশকমুক্ত। বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ ৩০ হাজার টাকার মতো। যা প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করে আয় হয় ৮০ হাজার টাকার অধিক।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো চাষ করে সফলতা পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলির চাষ করেছিলেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, প্রথমে ব্রোকলি চাষ করে তিনি কাঙ্খিত সফলতা পাননি। তারপরও হাল ছাড়েননি। এসময় পাশে এসে দাঁড়ান উপজেলা কৃষি বিভাগ। এরপরেই আসে সফলতা। তা দেখে উদ্বুদ্ধ হয় স্থানীয় কৃষকরা। লাভজনক এই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তারা। এরপর থেকেই এখানে বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলির বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে কৃষকের মাঝে সম্ভাবনাময় এবং নতুন সবজি হিসেবে সাড়া ফেলেছে ব্রোকলি। অনেক কৃষকই এই সবজি চাষের জন্য আমার কাছে আসছেন পরামর্শ নিতে। ভোক্তা পর্যায়ে এর চাহিদা যেমন বেড়েছে এবং কৃষকরা যেভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন তাতে আগামীতে এ সবজি চাষে বিপ্লব ঘটবে। ফিরবে কৃষকের ভাগ্যও। স্বল্প সময়ে ও অল্প খরচে একবিঘা জমিতে ব্রোকলি থেকে খরচ বাদ দিয়ে উপার্জন হচ্ছে অর্ধ লক্ষাধিক টাকার বেশি।
হ্রদ ও পাহাড় বেষ্টিত লংগদুর মাটি ও আবহাওয়া ব্রোকলি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ এই ফসল উৎপাদন ও প্রদশর্নীর উদ্যোগ নিতে পারেন বলে জানান স্থানীয়রা।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী বলেন, কৃষকদের এই সবজি চাষে উদ্ধুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। আর নতুন সবজি হিসেবে এর বাজারজাতকরণেও নেওয়া হয়েছে যথাযথ উদ্যোগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ সবজি চাষ একদিকে চাষিদের জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনি পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়ক। আমাদের প্রত্যাশা আগামীতে এ সবজির চাষ যেমন বাড়বে তেমনি এই সবজির চাষ সম্প্রসারণই এখন আমাদের কার্যক্রম।
মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।