পুকুর সংকটে কাপ্তাই হ্রদে রেণু সরবরাহ কমছে

মারিশ্যাচর হ্যাচারী

দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে রেণু সরবরাহ করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) লংগদু উপজেলার মারিশ্যাচর হ্যাচারী। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়ি অঞ্চলের এই হ্যাচারীতে বার্ষিক একশো কেজি রেণু উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও পুকুর সংকটের কারণে বর্তমানে উৎপাদন সীমিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ কেজিতে।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে এই হ্যাচারীতে রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়। হালদা নদী ও কাপ্তাই হ্রদের রুই, কাতল এবং মৃগেল মাছের ব্রুড সংগ্রহ করে দুইটি ব্রুড পুকুরে সংরক্ষণ করা হয়। পরে প্রজনন ও পরিচর্যার মাধ্যমে হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন করা হয়। ইনব্রিডিং মুক্ত, দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী এই রেণুগুলো এক বছর নার্সারিতে রাখার পর নির্দিষ্ট মাপে পৌঁছালে কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হয়।

হ্যাচারীর একজন কর্মচারী শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা রেণু উৎপাদনের পর তা নার্সারিতে পাঠাই। পরে যত্নসহকারে বড় করে তুলি এবং নির্দিষ্ট সময় হলে হ্রদে অবমুক্ত করি।

রাঙামাটি বিএফডিসির ফিশ কালচারিষ্ট মো. ইসলাম হোসেন বলেন, হালদা নদী ও কাপ্তাই হ্রদ থেকে সংগ্রহ করা মা মাছের প্রজনন ঘটিয়ে আমরা রেণু উৎপাদন করি। হ্যাচারীতে একশো কেজি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে ৭০ কেজি উৎপাদন হচ্ছে। এর প্রধান কারণ পুকুর সংকট।

বিএফডিসি রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, আমাদের লক্ষ্য বছরে একশো মেট্রিকটন পোনা উৎপাদন করা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ব্যক্তিগত পুকুরেও রেণু উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছি।

এদিকে সচেতন মহলের অভিমত, কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ও হ্রদের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। তা না হলে পলি জমে হ্রদের গভীরতা হ্রাসসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে মাছের উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে মাছের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলো ধ্বংসের পথে। পলি জমে হ্রদ ভরাট হয়ে চলেছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবছর প্রায় ৬০ মেট্রিকটন কার্পজাতীয় পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হবে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।