প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জন— সাক্ষ্যগ্রহণ ফের পেছালো

0

মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ফাঁসির অপেক্ষা প্রহর গোনা প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ফের পিছিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত সময়ের আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে অভিযুক্ত প্রদীপের পক্ষে রীট করা হয়েছে। যার কারণে আদালত তাদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু আগামী ধার্য তারিখে আদেশ দাখিল করতে না পারলে প্রদীপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, একই মামলায় প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারণও অভিযুক্ত। তবে পলাতক চুমকির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদি হয়ে প্রদীপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রদীপের স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন।

গত ২৬ জুলাই দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি কার, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব ও কক্সবাজারে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে। ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। তার স্ত্রী চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী বলে দাবি করলেও তাঁর এমন কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় মামলা করেন তাঁর বোন। ওই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন প্রদীপ। এরপরই ২৩ আগস্ট প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

৩১ জানুয়ারি ২০২২ সিনহা হত্যায় প্রদীপের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রদীপের ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে পৌঁছানে হয়েছে। এরপর দিন ৯ ফেব্রুয়ারি পদীপের সাথে অপর খুনি লিয়াকতকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন তাদের আইনজীবী।

এফএম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm