অস্বাভাবিক তুষারপাতের কারণে বুধবার থেকে এভারেস্ট অঞ্চলের নেপালি ও চীনা দিক পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর তুষারঝড়ের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে যাওয়া একটি হেলিকপ্টারও দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’-র প্রভাবে সোমবার থেকে ভারতের উপর দিয়ে উত্তরমুখী হয়ে এভারেস্ট অঞ্চলসহ সমগ্র হিমালয় এলাকায় তীব্র তুষারপাত হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার পর্বতারোহী ও ট্রেকারের প্রিয় এই এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিম্নাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল তুষারপাতের কারণে একাধিক জনপ্রিয় ট্রেকিং রুট বন্ধ রাখা হয়েছে। আনাপুর্ণা, মানাসলু ও ধৌলাগিরি অঞ্চলে ট্রেকারদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে না যেতে বা চলমান যাত্রা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোবুচে এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে যাওয়া একটি ছোট বেসরকারি হেলিকপ্টার নামার সময় বরফে পিছলে দুর্ঘটনায় পড়ে।
সংস্থার মুখপাত্র জ্ঞানেন্দ্র ভূল বলেন, ‘হেলিকপ্টারটি অবতরণের সময় তুষারে পিছলে একপাশে কাত হয়ে পড়ে।
পাইলট বেঁচে গেছেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ তবে আটকে পড়া ট্রেকারদের উদ্ধার করা গেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আরও ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে। মঙ্গলবার রাতে ঘূর্ণিঝড় মন্থা ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানার পর হিমালয় অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে।
এভারেস্টের তিব্বতি অংশে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পর্যটকদের টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। সেখানকার তিংরি কাউন্টির পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, রাস্তা বরফে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে এবং দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এখনও তিব্বতের এভারেস্ট অঞ্চলে পর্যটক আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিংরি অঞ্চলে এই সপ্তাহে তাপমাত্রা আরো কমে হিমাঙ্কের নিচে নেমে যেতে পারে।
গত অক্টোবরের শুরুর দিকে তিব্বতের এভারেস্ট অংশে এক ভয়াবহ তুষারঝড়ে শতাধিক ট্রেকার আটকে পড়েছিলেন।
কয়েকদিনের উদ্ধার অভিযানে তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
অন্যদিকে, নেপালে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।