অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে পরিবারের নারীপ্রধানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন ও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এ সময় পাঁচজন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনের দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ওয়ার্ডের ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেখানে পরিবারের নারীপ্রধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীর সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই ভাবনা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সাধারণত দেশে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব—ফ্যামিলি কার্ড তারই প্রমাণ।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। হতদরিদ্র পরিবার দিয়ে শুরু করে পরে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের নির্বাচন করেছেন।
তিনি বলেন, সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের ক্ষমতায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেটের বড় একটি অংশ এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় বিনামূল্যে চিকিৎসা কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য ফার্মারস কার্ড চালু করা হয়েছে, যাতে তারা স্বল্পমূল্যে সারসহ কৃষি উপকরণ পেতে পারেন। এছাড়া দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।