বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে মিললো স্কুলছাত্রসহ ২ মরদেহ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের মিরসরাই অংশের সুপারডাইক এলাকায় একই দিনে ২টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জুন) ভোরে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় কঙ্কালসার স্কুলছাত্র আরমান হোসেন রুবেলের মরদেহ। একই দিন সকাল ১০টায় উদ্ধার হয় অজ্ঞাত আরও এক মরদেহ।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১৭ জুন) ভোর বেলায় চট্টগ্রামের কুমিরা নৌ পুলিশ সুপারডাইকের পাশে থেকে উদ্ধার করে স্কুলছাত্র রুবেলের হাত বাঁধা কঙ্কালসার মরদেহ। একই দিন বেলা ১০টার নাগাদ সুপারডাইকের পাশ থেকে আরেকটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মিরসরাই থানা পুলিশ।

নিহত রুবেল উপজেলার খৈয়াছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠানালা গ্রামে। সে ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলি বাড়ির শামসুদ্দিনের ছেলে। অপর মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ার কারণে নারী কিংবা পুরুষ তাও বুঝে উঠতে পারেনি পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

চট্টগ্রামের কুমিরা নৌ পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার নাগাদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের সাগর পাড়ের সুপারডাইক এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা শনিবার ভোরে উদ্ধার করা হয়। এরপর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কুমিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ দাশ শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মূলত ছিলো একটি কঙ্কালসার। হাত এবং গলায় কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো ছিলো। কঙ্কাল হওয়ার কারণে মস্তক ছিলো কি না বোঝা যাচ্ছিলো না। উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চমেক মর্গে পাঠানো হয়।

রুবেলের মরদেহ শনাক্তের বিষয়ে নৌ পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, চমেকের মর্গে গিয়ে পরিবারের তরফ থেকে মরদেহটি শনাক্ত করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।

এদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ স্কুল ছাত্র রুবেলের বলে শনাক্ত করেছেন তার বড় ভাই বেলাল হোসেন। শনিবার বিকালে চমেক মর্গে গিয়ে মরদেহটি নিজের ছোট ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন তিনি।

বেলাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, সর্বশেষ গত ১১ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার নাগাদ তার ভাই আরমান হোসেন রুবেল বাড়ির পাশের সুফিয়া বাজার এলাকায় একটি দোকানে কেরাম খেলা দেখছিলো। ওই রাতে সে আর বাড়ি ফিরেনি। তবে তার এক বন্ধু রুবেলকে ওই রাতে ফোন দিলে সে জানিয়েছিলো সে শিল্পনগর এলাকায় সাগরে মাছ ধরতে গেছে। এরপর এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়।

এদিকে রুবেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এলাকাবাসী বলছেন, রুবেলের সাথে কারও কোন সমস্যা আছে কি না তারা তা জানেন না। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হলো এ বিষয় নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে প্রশ্ন তুলে হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন তার মা।

মিরসরাই থানা পুলিশের উদ্ধার হওয়া মরদেহ সম্পর্কে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, শাহেরখালী এলাকার সুপারডাইকের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি এতটাই পঁচে গেছে যে, এটা নারী কিংবা পুরুষ তাও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চমেকের মর্গে পাঠিয়েছি।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।