রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মিছিলে অনুপ্রবেশ করে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার সময় ‘ইনশাআল্লাহ’ নামের একটি গোপন গ্রুপের চার সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে উপজেলার মুসলিম ব্লক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যার পর ১৫–২০ জনের একটি দল গোপনে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা সেখানে হানা দেয় এবং চারজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যায়।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের মোবাইল ফোনের কথোপকথনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা আজ ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দলটি পূর্বে ‘মুসলিম ব্লক ছাত্রলীগ’ নামে পরিচিত ছিল। পরে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াসঅ্যাপে নজর এড়াতে গ্রুপটির নাম বদলে ‘ইনশাআল্লাহ’ রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা গোপনে সংগঠিত হয়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।
এমনকি গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন, এদের মধ্য থেকেই কয়েকজন মুসলিম ব্লক এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটককৃতদের নাম যথাক্রমে— মো. বাদল, ওমর ফারুক, সাকিব ও মো. সাদ্দাম হোসেন।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আটক চারজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য। তাদের মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নাশকতার পরিকল্পনার সত্যতা মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়রা প্রশংসিত হয়েছে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অপরাধীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।