বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অগ্রগতি নেই, ৩ মাসেও শুরু হয়নি কাজ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বহু কাঙ্ক্ষিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন প্রকল্পটি আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সীমানা নির্ধারণের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি নির্মাণ কার্যক্রম। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঘাইছড়ি উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে এবং সীমানা চিহ্নিত করে ফ্ল্যাগ স্থাপন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।

কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। অবকাঠামো উন্নয়ন, উপকরণ সংগ্রহ বা জনবল নিয়োগ— কোনো কিছুতেই দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে আবারও প্রশাসনিক জটিলতা বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।

বাঘাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দারা বলছেন, সীমানা নির্ধারণ করে চলে যাওয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। আমরা আবারও হতাশ হচ্ছি।

তারা আরও বলেন, বাঘাইছড়ির মতো দুর্গম ও অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। অথচ আমরা শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি।

বাঘাইছড়ি চৌমুহনী ও উপজেলা মার্কেট কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দীন বাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনে আসছি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধুমাত্র পরিদর্শন নয়, বাস্তবায়নের পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে নির্মাণকাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান আনসারী জানান, সীমানা নির্ধারণ করে ফ্ল্যাগ বসানো হয়েছে যাতে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ ফায়ার সার্ভিস এলাকার মধ্যে না পড়ে। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পে কিছুটা দেরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বরাদ্দ ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা নিয়মিত ফলোআপ করছি। এর মধ্যে সাজেক এলাকায় একটি অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপনেও কাজ করা হচ্ছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।