পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত বান্দরবানের বাসস্ট্যান্ড থেকে হাফেজঘোনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাওয়ার পথে ৫০০ ফুট দীর্ঘ টানেলটি উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মাথায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালে ফাটল, ভেতরে অন্ধকার, পানি চুইয়ে পড়া ও বড় বড় গর্তের কারণে এটি এখন পথচারী ও গাড়িচালকদের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানেলের ভেতরে বাতি না থাকায় দিনদুপুরেও থাকে অন্ধকার। বৃষ্টির সময় দেয়াল ফেটে পানি গড়িয়ে পড়ে রাস্তাজুড়ে জমে থাকে কাদা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই উদ্বোধনের অল্প সময় পর থেকেই টানেলটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে।
ওই পথে চলাচলকারী পথচারী ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগে যাতায়াত সহজ হলেও এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। চালকরা জানিয়েছেন, বড় বড় গর্ত ও ধসে পড়া মাটির কারণে টানেল দিয়ে গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রকল্পের জন্য ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে এবং উদ্বোধন করেন তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। তবে এখন টানেলটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় টানেলটি আরও ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত জানান, এটি মূলত সংযোগ সড়ক হলেও অনেকের কাছে টানেল হিসেবে পরিচিত। লোকের কাছে সেটাই পরিচিতি পায়। টানেলের কানেকশনে আরসিসি ঢালাইয়ে যে জয়েন্টগুলো আছে সেখান থেকে পানি পড়ছে। সেটিকে অনেকে না বুঝে টানেল ফেটে পানি পড়ছে বলে অভিযোগ করছে। বৃষ্টিতে মাটি ধসে ভরাট হয়ে যায়, জিও ব্যাগ ব্যবহার করলেও সেগুলো চুরি হয়েছে। উদ্বোধনের সময়ের লাইট ও অন্যান্য সামগ্রীও চুরি হয়ে যায়। বৃষ্টি শেষ হলে টানেলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, কাজ শেষ হয় পাঁচ বছর আগে, উদ্বোধন করা হয় দুই বছর আগে। বর্তমানে এটি বান্দরবান পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। টোল আদায় নিয়ে উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভার মধ্যে ভাগাভাগির আলোচনা চলছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।