বিয়ের পরে চবির আলাওল হলে হৃদয়ের মেহেদী সন্ধ্যা

0

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়লগ্নে বন্ধুদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন হৃদয়। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলে আনন্দমুখর পরিবেশে মেহেদী সন্ধ্যার আয়োজন করে হৃদয়ের বন্ধুরা। যদিও হৃদয়ের গায়ে হলুদ ও বিয়ে আগেই সম্পন্ন হয়েছে তার গ্রামের বাড়িতে। তাতে কি! বন্ধুরা ক্যাম্পাসে মেহেদী সন্ধ্যা উদযাপন করেছে বেশ সমারোহে। এই আয়োজনের মাধ্যমে চবির আলাওল হল হয়ে গেল ইতিহাসের স্বাক্ষী। চবিতে এর আগে মেয়েদের হলে মেহেদী সন্ধ্যা হলেও ছেলেদের হলে এটিই প্রথম।

হৃদয়ের পুরো নাম মো. ফজলে রাব্বী হৃদয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার কাজলায়। বিয়ে করেছেন তারই কোচিং বন্ধু ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মেয়ে সীমা আক্তারকে। সীমা আক্তার বর্তমানে কর্মরত আছেন জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডওয়াইফ কর্মকর্তা হিসেবে।

বিকেল থেকেই শুরু হয় আয়োজন। হৃদয়ের গায়ে হলুদ লাগাতে বন্ধুদের হুড়োহুড়ি। হৃদয় হাসিমুখে বন্ধুদের হলুদ মাখা নিতে থাকলো। সন্ধ্যায় হলো কেক কাটা। খাওয়দাওয়ার পরেই শুরু ডিজে পার্টি। আনন্দ কে থামায়? বাংলা হিন্দিগানের তালে বন্ধুরা মিলে নাচলো জমিয়ে।

হৃদয়ের মেহেদী সন্ধ্যায় ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসাইন। ইমরান হোসাইন চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, ‘যার যখন ভালো লাগে তার তখন-ই বিয়ে করা উচিত। কাছের মানুষকে দূরে রাখা উচিত নয়। চাকুরি হলে বিয়ে করবো এ চিন্তা বাদ দিলেই ভালো হয়’।

হৃদয়ের বন্ধু রাকিব, মিনহাজ, সাইফুল,রুমানসহ ৩০ জন বন্ধু মিলে আয়োজন করেছে হৃদয়ের মেহেদী সন্ধ্যার। পুরো আয়োজনে তারা সবাই ছিল উচ্ছ্বাসিত।

হৃদয়ের বন্ধু মনোয়ার রিয়াজ মুন্না বলেন, আমরা স্নাতকোত্তর দিয়ে ফেলেছি। আমাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। চিন্তা করলাম বিদায়ের আগের সময়টাকে প্রীতিময় করার। এ চিন্তা থেকেই আমরা বন্ধুরা মিলে হৃদয়ের হলুদ উদযাপন করেছি। এ উদযাপন হৃদয় মমে রবে চিরকাল’

বন্ধুদের এমন আয়োজনে বেশ খুশি হৃদয়। বন্ধুদের নিজেই মেহেদী সন্ধ্যায় বিরাণী রান্না করে খাওয়ালেন। হৃদয় চট্টগ্রাম খবরকে বলেন,‘এটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেরা একটা অনুভূতি। বিয়ের পরে গায়ে হলুদ ক্যাম্পাসে আমিই প্রথম পেলাম। বন্ধুদের আনন্দ উদযাপন আমাদের হৃদয়ের গভীরে দাগ কেটেছে। এ স্মৃতি আজীবন থাকবে মনে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm