বৃদ্ধের ঘাড়ে সোনালী ব্যাংকের আড়াই লাখ টাকার ‘ভুয়া ঋণ’—স্ট্রোকের পর মৃত্যু

অভিযোগ নেয়নি পুলিশ

রাঙামাটির লংগদুতে ৫ শতাধিক কৃষকের নামে সোনালী ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকা ঋণ দেখানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের দাবি—‘ঋণের চাপ সইতে না পেয়ে’ তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার নামে সুদেআসলে আড়াই লাখ টাকার ঋণ দেখানো হয়।

নিহত বৃদ্ধের নাম আক্তার আলী। তিনি উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ২৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে বুধবার (৩১ জানুযারি) থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ নেয়নি পুলিশ।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা এর সঠিক বিচার চাই। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি।

নিহত আক্তার আলীর ছেলে বাদশা আলম ও তার পরিবারের দাবি, ১০-১২ বছর আগে স্থানীয় দাদালচক্র সরকারি সহায়তার প্রলোভনে তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে একই পরিবারের ৪ জনের নামে লংগদু সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে মিথ্যা ঋণ উত্তোলন করে। যা বর্তমানে সুদাসলে আড়াই লাখ টাকা হয়েছে।

নিহত আক্তার হোসেনের পরিবার আরও জানায়, গত ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আক্তার হোসেন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চারজনের নামে প্রায় আড়াই লাখ টাকার কৃষি ঋণ রয়েছে উল্লেখ করে সেই টাকাগুলো অবিলম্বে পরিশোধের জন্য আইনী নোটিশ প্রদান করে সোনালী ব্যাংক লংগদু শাখা কর্তৃপক্ষ।

জীবনে ব্যাংকের আশেপাশেও না আসা দরিদ্র কৃষক আক্তার হোসেন হঠাৎ করেই সোনালী ব্যাংকের টাকা পরিশোধের নোটিশ পেয়ে হতাশা আর আতঙ্কে ব্রেইন স্ট্রোক করে বাকশক্তি হারিয়ে, প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী হন। অবশেষে দীর্ঘ ৫২ দিন পর ২৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় সঠিক বিচারের দাবি জানিয়ে আজ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে লংগদু থানার তদন্ত ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপির বিষয়ে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এটা তদন্তাধীন রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এটার একটি সুরাহা হবে। তাই তাকে একটু সময় নিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংক লংগদু শাখার ঋণ খেলাপির প্রতিবাদে ১৪ জানুয়ারি ভুক্তভুগীরা লংগদু সদরে মানববন্ধন করেন। এতে বলা হয় নামে বেনামে ৫০৬ কৃষকের নামে জালিয়াতি করে প্রায় ৫কোটি টাকার মতো ঋণ দেখানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত । একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন রাঙামাটি জেলা কার্যালয়েও অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদকও বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

গত ২৩ জানুয়ারি রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবু হানিফ এই নির্দেশ দেন।

আদালতের লিখিত আদেশে বলা হয়, একটি সংঘবন্ধ চক্র ব্যাংকে রক্ষিত জনগণের মূল্যবান অর্থ আত্মসাৎ করা বা বেআইনী কার্যকলাপে ব্যবহারের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা ও ভুয়া ঋণ গ্রহণের কাগজপত্র তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যা বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুসারে ফৌজদারী অপরাধের আওতায় পড়ে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।