ভারত পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ : সহকারী হাইকমিশনার

ভারতের সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেছেন, ভারত পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনার এক দেশ। ভারতের রূপ-সৌন্দর্য্য দেখতে পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা ছুটে আসেন। ভারতের জিডিপিতে পর্যটন খাতের বিশাল অবদান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীতে ভারতের পর্যটন খাত নিয়ে সহকারী হাইকমিশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন ডা. রাজীব রঞ্জন।

তিনি আরও বলেন, করোনায় পুরো পৃথিবীর পর্যটন খাতই স্থবির হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে বিকল্প উপায়ে এই খাতকে বিকশিত করতে পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পর্যটকদের পদচারনায় মুখর ছিল ভারত। ভিসা প্রদানের পরিসংখ্যানে চট্টগ্রামের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

ভারত সরকারও বাংলাদেশীদের বিষয়ে খুবই আন্তরিক উল্লেখ করে ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, ভিসা প্রসেসিং বর্তমানে খুবই সহজ। ভারতে খুব স্বল্প খরচেই বাংলাদেশীরা ঘুরতে যেতে পারে। এমনকি উন্নতমানের মেডিকেল সেবাও গ্রহণ করতে পারেন।

আলোচনা সভায় ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব উদত ঝা বলেন, ভারত স্বর্গীয় এক দেশ। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, বন, সংস্কৃতির এক অন্যন্য নিদর্শন রয়েছে ভারতে। অনেক বাংলাদেশীয় মনে করে ভারত তাদের দ্বিতীয় বাড়ি। সত্যিই সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে দুদেশের মধ্যে বেশ মিল রয়েছে। বাংলাদেশীরা ভারতে ঘুরতে গেলে অসাধারণ তৃপ্তি উপভোগ করবে। ভারতের সিকিম, পুনে, গোয়া, দিল্লী, কলকাতায় রয়েছে অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট।

ভারত পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দেশ : সহকারী হাইকমিশনার 1

আলোচনা সভায় অরনি ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের সত্ত্বাধিকারী দিপুল বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মালম্বীদের অন্যতম পুণ্যক্ষেত্র ভারত। বাংলাদেশর মানুষ ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবে ভারতকে যেমন ভালোবাসে তেমনি ভালোবাসে পর্যটনক্ষেত্র হিসেবেও। ভারত ট্যুরিজমের জন্য অসাধারণ এক দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশীরা ভারতের পর্যটন ভিসা পেলে শুধুমাত্র মেডিকেল চেকআপ করাতে পারে। সার্জারিসহ পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের সুযোগের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম খবরের নির্বাহী সম্পাদক শেখ মো. আকিজ বলেন, করোনা সংক্রমনের কারণে ভারত স্থল সীমান্ত সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করলে এই সুযোগ নিয়ে কিছু এয়ারলাইন্স অস্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করে। তখন বিপাকে পড়ে মধ্যম আয়ের মানুষ। সাধারণ মানুষের স্বার্থে তা হতে দেওয়া যাবে না। মধ্যম আয়ের মানুষ স্থলপথের উপর নির্ভরশীল। তাই স্থলপথে বিধিনিষিধের পরিবর্তে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে বিমানবন্দরের ন্যায় স্থলবন্দর রুটে যাতায়াত সহজ করা যেতে পারে।

তিনি সবুজ সুফলা চিরায়ত বাংলার রূপ দর্শনে ভারতীয় নাগরিকদেরকে বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বানও জানান।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতকে অনেক বেশি ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারতকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। আমি আমার বোন জামাইয়ের লিভার ট্রান্সপারেন্টে ভারতের এপোলো হসপিটালে গিয়েছিলাম। ভারতের ডাক্তার আচরণ ও আন্তরিকতা সত্যিই অসাধারণ।

হোটেল দি পেনিনসুলার ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশ ভ্রমণে আসলে তাদের হোটেল পেনিনসুলায় আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমাদের হোটেল পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে। যা সত্যিই উপভোগ্য।

অপর বক্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অসাধারণ। এ অসাধারণ সম্পর্ক পর্যটনক্ষেত্রের মাধ্যমে আরো এগিয়ে যেতে পারে।

আলোচনা সভায় মনোজিত বলেন, ভারত নামটা বাংলাদেশীদের জন্য প্রশান্তির এক নাম। বাংলাদেশীরা ভারতে গিয়ে অসাধারণ দৃশ্যপট উপভোগ করতে পারে।

আলোচনা সভায় ভারতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট, সাংস্কৃতিক দিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে বেশকিছু তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।