ভিজিট ভিসার ফাঁদে মানবপাচার, মালয়েশিয়া থেকে সাত মাসে ফিরেছেন ৪২৬ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় ভিজিট ভিসার মাধ্যমে বৈধ কর্মসংস্থানের আশায় পাড়ি জমাচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। তবে গন্তব্যে পৌঁছে কাজের সুযোগ তো দূরের কথা, উল্টো পড়ছেন মানবপাচারের চক্রে। এভাবে গত সাত মাসে অন্তত ৪২৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে, যাঁদের অনেকে জেল খেটে ফিরেছেন।

কক্সবাজারের চকরিয়ার মোজাফফর আহমদ জানান, ৪.৮ লাখ টাকা খরচ করে জানুয়ারিতে তিনি মালয়েশিয়া যান পর্যটক ভিসায়। দালাল বলেছিলেন, পৌঁছে গেলে পরে ওয়ার্ক পারমিট করে দেওয়া হবে। কিন্তু বিমানবন্দরেই তার কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে নেয় চক্রটি। এরপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। মোজাফফরের ভাষায়, ওরা আমার পরিবার থেকে আরও ১.২ লাখ টাকা নেয়। পরে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিন মাস জেল খেটে আমি দেশে ফিরি।

এ রকম ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ নিচ্ছে। পর্যটক ভিসা ব্যবহার করে তারা কর্মী পাঠাচ্ছে অবৈধভাবে।

সরকারি হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ৩৫৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই। আরও ৭০ জন বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে দেশে ফিরেছেন।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, অধিকাংশ ভিজিটর সন্দেহজনক বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের ঘাটতি এবং অস্পষ্ট ভ্রমণ উদ্দেশ্য দেখানোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ অবস্থার জন্য বিশেষজ্ঞরা দালালচক্র ও শ্রমবাজার বন্ধ থাকার দায় দিচ্ছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যতদিন বৈধ চ্যানেল বন্ধ থাকবে, ততদিন মানবপাচার বন্ধ হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আগামী ১১ আগস্ট মালয়েশিয়া সফর করবেন শ্রমবাজার ইস্যুতে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই বৈঠকে স্থবিরতা কাটাতে অগ্রগতি হবে।

তবে সিন্ডিকেট-নির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থার বিষয়ে মালয়েশিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগেও একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পরও কোনো ফল আসেনি।

বাংলাদেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের অন্যতম গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া। বাজারটি পুনরায় চালুর দাবিতে এখন রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রতারণা, কারাবাস আর স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ভুগছেন অসংখ্য পরিবার।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।