ভোট যুদ্ধে দ্বিমুখী লড়াইয়ে মুখোমুখি বারেক-বাবু

আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লংগদু উপজেলায় অন্যান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ছাড়াই আগামী ২৯ মে’র উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ মুহূর্তে বেশ জাঁকজমক হয়ে উঠেছে। চেয়ারম্যান পদে ৪ জন থাকলেও এবারে শক্তিশালী দুই প্রার্থী হচ্ছেন লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার (ঘোড়া) ও অপর হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু (আনারস) প্রতীকে লড়ছেন।

এ উপজেলায় আওয়ামী পরিবারের বাহিরে কোনো প্রার্থী না থাকায় এবং দলীয় নৌকা প্রতীকের একক প্রার্থী না থাকায় লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কোমর বেঁধে নেমেছেন নিবার্চনী মাঠে। নিবার্চনী আসনে এক পান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে ভোটাদের মাঝেও। একইভাবে আনারস প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবুর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। নিজেদের দলের প্রতীক না থাকলেও লংগদুর রাজনৈতিক মর্যাদার লড়াই ধরে রাখার জন্য প্রকাশ্যে ভোটের হাওয়ায় ভাসছেন উপজেলার শীর্ষ এ দুই নেতা। তাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে লংগদু উপজেলার সর্বত্র।

এর ফলে দেখা দিয়েছে, ঘোড়া ও আনারস প্রার্থীর মধ্যে দ্বি-মুখী লড়াই। প্রার্থীদের ইমেজের চেয়ে বেড়েছে নেতাকর্মীদের ইমেজ। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম সক্রিয় ভাবে মাঠে কাজ করছেন বাবুল দাশ বাবুর পক্ষে অর্থাৎ আনারস প্রতীকে। গত কয়েকদিনের আনারসের নিবার্চনী পথ সভায় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সভায় উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একযোগে আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করার ঘোষানাও দেন। তারা হলেন- আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় চাকমা মিত্র, গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বশর, ভাসান্যাদম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী, মাইনীমূখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল ও লংগদু সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিক্রম চাকমা বলি। তবে এ নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনাও।

জাতীয় সংসদ নিবার্চনে পর থেকেই উপজেলা পরিষদের এ আসনটি নিয়ে এবারও আওয়ামী লীগের মধ্যেই শুরু হয়েছে পক্ষ-প্রতিপক্ষ। তবে নৌকার প্রার্থী না থাকায় কে হবেন চেয়ারম্যান তা নিয়ে শঙ্কা আছে। দ্বিমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে নিজ দলীয় সাবেক-বর্তমানের।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরো রয়েছেন দোয়াত কলম প্রতীকে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো. আবছার আলী মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, ঘোড়াকে হোঁচট দিতেই প্রস্তুত হয়েছে আনারস। লংগদু উপজেলা ৭টি ইউনিয়নে এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৬১ হাজার ২৬৩, এরমধ্যে পুরুষ ভোট ৩১ হাজার ৮৭৭ ও মহিলা ভোট ২৯ হাজার ৩৮৬।

গত নিবার্চনে নৌকা প্রতীকের বিপরীতে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল বারেক সরকার। তবে এবারে ভাগে বসেছে শক্তিশালী প্রার্থী বাবুল দাশ বাবু। সে কারণে ভোটের মাঠে ঘোড়ার জয়লাভ অতোটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সেলিম বলেন, ভোটের মাঠে লড়াই হওয়ার কথা সাধারণ ভোটারদেরকে নিয়ে কিন্তু এখন দেখছি নেতাদের টানাটানির হিড়িক। নেতারা কোন দলে যোগ দেবেন তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে কোন প্রভাব পরবে না। তার পড়েও সহজে ঘোড়া পার পাবে না এবার।

বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার বলেন, ‘আমি মাইনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরবর্তী উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা কালে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা এর আগে আর কখনও হয়নি। তাই এবার জনগণ ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস আমার।

এদিকে শক্তিশালী আনারস প্রতীকের প্রার্থী বাবুল দাশ বাবু বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকার উন্নয়নে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে জনগণ তাকে কাছে পায়নি। তাই জনবিচ্ছিন্ন চেয়ারম্যানকে এবার প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ। আমি নির্বাচিত হলে লংগদু উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব।’

সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষকরা জানান, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা আনারস প্রতীকের প্রার্থী বাবুর পক্ষে সভা-সমাবেশ করছেন এবং বিচ্ছিন্ন কিছু নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বারেক সরকারের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।

ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোট যুদ্ধ লেগেছে। মাঠ ধরে রাখার জন্য দুই পক্ষেই মর্যাদার লড়াই চলছে। শেষ পর্যন্ত এ উপজেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কে হবেন এ উপজেলার চেয়ারম্যান তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।