মিরসরাইয়ে আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি মেলায় দর্শনার্থীদের ঢল

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের প্রায় আড়াই শত বছরের পুরোনো ইছামতি মেলা, পুজা ও অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে পূজা দিতে মেলা ও মন্দির প্রাঙ্গণে মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস ইছামতি মায়ের মন্দিরে যে কেউ নিয়ত করে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়।

মেলা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর ৬ বৈশাখ ইছামতি মেলা ও ৭ বৈশাখ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গনে আলোকসজ্বার আয়োজন করা হয়েছে। বাদ্যযন্ত্রের মধুর শব্দে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে এক উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রায় সব ধর্মের লোকের সমাগম ঘটে মেলায়। সারাদিন চলে পূজা অর্চনা। মেলায় দেশ বিদেশের হাজার হাজার দর্শণাথী ছুটে আসেন।

অনেকে নিয়ত করে মন্দিরের পাশে অবস্থিত বট গাছের গায়ে সূতো জড়িয়ে দেয়। গত ১১ বছর আগেও মেলা উপলক্ষে বলি খেলার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বলি সংকট হওয়ায় বলি খেলা বন্ধ হয়েছে। গত তিন বছর আগে প্রায় ১১০ বছর বয়সে মারা যায় গোবিন্দপুরের বলি যচিন্দ্র। আগে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ভক্তরা এলেও এখন আসে না।

সরেজমিনে ইছামতি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নেমেছে। করা হয়েছে ডেকোরেশন ও আলোকসজ্জ্বা। মন্দিরের পাশের জমি ও ইছামতি ছরার পাড়ে দোকানিরা বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছে। মেলার দক্ষিণ পাশে বসেছে কাঠের তৈরি পণ্যের দোকান। এদের একজন তাপস সূত্রধর। তিনি জানান, প্রত্যেক বছর ইছামতি মেলায় কাঠের তৈরি পুজার আসন, বসার পিড়িসহ বিভিন্ন আসবারপত্র নিয়ে আসেন। বিক্রি হয় ভালো।

ইছামতি মেলা, পূজা ও উৎসব পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন দত্ত বলেন, ইছামতি মেলাটি প্রায় ২৫০ বছর ধরে চলে আসছে। মেলা উৎযাপনে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সবাই সহযোগীতা করে। প্রত্যেক বছর ৬ ও ৭ বৈশাখ পুজা, মেলা এবং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

এদিকে মেলা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ সম অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। এটা বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে। ইছামতি একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। চলতি বছর সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে মেলা, পুজা এবং উৎসব উৎযাপন হওয়ায় আমি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।