মিরসরাইয়ে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বৈঠকের মধ্যে আপন ভাগিনার (বোনের ছেলে) ছুরিকাঘাতে মামা হারুন অর রশিদকে (৪৫) হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মধ্যম তালবাড়িয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত হারুন ওই এলাকার মো. সেকান্দারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে ভাগিনা শাহীন আলম পলাতক রয়েছে।
ভাগিনা শাহীন আলম একই বাড়ির মো. হালিমের ছেলে। হারুনের দুই সন্তান রয়েছে। সে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। কিছুদিন পূর্বে ছুটিতে দেশে এসেছে।
নিহত হারুনের জেঠাত ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার চাচা সেকান্দার একটি জায়গা আমার চাচাতো ভাই হারুন ও তার বোন শাহানার সাথে হাঁটার পথ ও পানি যাওয়া নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের মিমাংসার জন্য বুধবার আসরের নামাজের পর তাদের বাড়িতে বৈঠকে বসেছি। বৈঠকে বোন ভাগিনার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ভাগিনাকে মামা একটি চড় দেয়। এরপর ভাগিনা ঘরে গিয়ে চুরি এনে কিছু বুঝে উঠার আগেই মামার বুকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর আমরা গাড়ি দিয়ে দ্রুত মিরসরাই সেবা হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ার আরও বলেন, হারুনের বোন খুব খারাফ প্রকৃতির। সে বৈঠকের শুরু থেকে উত্তেজিত ছিল। ছেলে ছুরিকাঘাত করার পর মা কৌশলে ছেলেকে পার করে দিয়েছেন। আমরা খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎক ডা. রুম্মান জানান, ভিকটিমকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখি, হাসপাতালের নিয়ে আসার পূর্বে মারা গেছে। তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের আঘাত রয়েছে।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশের তিনটি টিম আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহত হারুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।