মিরসরাই পৌরবাজারে পণ্যের চড়া দাম, নেই তদারকি

0

আশপাশের অন্যসব বাজার থেকে বেশি দামে বিক্রি হয় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পৌরবাজারের সব পণ্য। সঠিক তদারকির অভাবে এক রকম নিজেদের খেয়াল খুশি মতো পণ্যের দাম রাখেন দোকানিরা। এতে করে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্ধগতির মধ্যে আরও অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হিমসিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, পৌরবাজারের সামান্য দূরত্বে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারের সাথেও রয়েছে এ বাজারের দামের তারতম্য। পাইকার থেকে একই দরে পণ্য কিনেও উপজেলার অন্যন্য বাজারে দোকানিদের চেয়ে ১০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেন এ বাজারের দোকানিরা।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে দেখা যায়, মিরসরাই পৌরবাজারে বয়লার মুরগি বিক্রয় হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। কিন্তু পৌরবাজারের সামান্য দূরে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা দরে।

কেজি প্রতি বাজার ভেদে দরের এমন পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরসরাই পৌরবাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, ক্রয় বেশি এছাড়া পরিবহন খরচ যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রয় করতে হয়। ক্রয় রশিদ দেখিয়ে বলেন কেজি প্রতি পাইকারে কাছ থেকে কেনা ১৪৩ টাকা তাই ১৭০ টাকা বিক্রয় না করলে পোষায় না। এছাড়া পৌরবাজার দাম একটু বেশি।

কিন্তু উপজেলার বড়তাকিয়া ও মিঠাছড়া বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়লার মুরগির বিক্রয় হচ্ছে কেজি প্রতি ১৫০ টাকা দরে। তাদের ক্রয়ও ১৪৩ টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য কাচা পণ্যের মূল্যেও রয়েছে আকাশ পাতাল তারতম্য।

উপজেলার অন্যান্য বাজারের তুলনায় এই বাজারে ফলের প্রতি কেজিতে মূল্য ৫০ টাকা বেশি। শাক, সবজি ও মাছের বাজারের পরিস্থিতিও একই। যার ফলে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারের সদস্যরা কম দামের আশায় ছুটে যান আশপাশের বাজারে। এতে করে যেমন তাদের সময় নষ্ট হয় তেমনি পোহাতে হয় বাড়তি ভোগান্তি।

মিরসরাই পৌরবাজারের স্থানীয় নুরের ছাফা বলেন, পৌরবাজারে সব সিন্ডিকেট করে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রয় করে তাই একটু কম দামে সময় নষ্ট করে হলেও বড়তাকিয়া বাজারে গিয়ে বাজার করি।

নিয়াজ মোরশেদ আনিস নামে এক খামারি বলেন, খামারিরা বর্তমানে বাজারমূল্য অনুযায়ী ১৪৩ থেকে ১৪৪ টাকায় পাইকারে বয়লার মুরগি বিক্রয় করছেন। কিন্তু উপজেলার মিরসরাই পৌরবাজার ও আবুতোরাব বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যান্য বাজারের তুলনায় বেশি দামে মুরগি বিক্রয় করে।

জানতে চাইলে মিরসরাই পৌরবাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি উপজেলার অন্যান্য বাজারের সাথে সমতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণের। কিন্তু আমাদের কথা ব্যবসায়ীরা মানানে না।

পৌর মেয়র ও বাজার কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাজার তদারকির কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উনার সাথে কথা বলেন।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, আমি আসার পর থেকেই দেখছি মিরসরাই পৌরবাজারের খুবই খারাপ অবস্থা। এখানে ঢাকার চাইতেও পণ্য মূল্য বেশি। বাজারমূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা ও জোগানের উপর ভিত্তি করে। অপর দিকে দাম বাড়লে চাহিদা কমে দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বাজার ভারসাম্যর অর্থনৈতিক এই সূত্র এখানে ব্যর্থ। এখানে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্তিমভাবে পণ্য মূল্য বাড়ানো হয়। অচিরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালানা করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm