রাঙামাটিতে জুম ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব, খাদ্য সংকটের শঙ্কা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে জুম ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিয়ালদাই মৌজার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসবাসকারী পরিবারগুলো একমাত্র জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। আগস্ট মাসের শেষের দিকে ধান পাকা শুরু হওয়ার পর রাতের বেলায় ইঁদুর ক্ষেতে ঢুকে ধান খেয়ে নষ্ট করছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, দুর্গম পাঁচটি গ্রামে প্রায় ২৩২ পরিবারের জুম ধান নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো শিয়ালদাই লুইপাড়া (৫৮টি পরিবার), হাচ্চ্যাপাড়া (৭০), জামপাড়া (১৬), অরুণপাড়া (৪০) ও লুংতিয়ানপাড়া (৪৮)।

শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৈইপুই থাং ত্রিপুরা বলেন, অন্যান্য স্থানে ধানে ফুল বা শীষ এসেছে; সেখানে ইঁদুর গাছের গোড়া কেটে ধান নষ্ট করছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম ধান আবাদ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৫০০ টন চাল। বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৭৮ হাজার টন চাল।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বাঘাইছড়িতে এক সভায় ইঁদুরের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে আশ্বস্ত করেন।

প্রসঙ্গত, জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রথা। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাহাড় পরিষ্কার ও মার্চ-এপ্রিল মাসে আগুনে পুড়িয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এপ্রিল-মে মাসে বীজ বপন হয় এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ধান ঘরে তোলা হয়।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।